আসুন, একবার দাঁড়িয়ে যাই

Mon, Jun 7, 2021 8:55 AM

আসুন, একবার দাঁড়িয়ে যাই

জামিলুর রহমান চৌধুরী: আমার-আপনার গ্রামে বা পাড়ায়-মহল্লায় কয়জন দুর্নীতিবাজ-চোর আছে?

একজন, দুইজন ? বা একজনও নেই । অথবা এরও বেশী ! কত বেশী ? দশ-বিশ ? তাই তো?

আমার-আপনার গ্রামে-পাড়ায়-মহল্লায় মোট কতো মানুষের বাস? সংখ্যায় দুর্নীতিবাজ-চোরদের চাইতে নিশ্চয়ই কম নয়, নাকি ?

তাহলে কিসের এতো ভয়? এই দুর্নীতিবাজ চোরেরা বীরদর্পে চলে কিভাবে? এদের সাথে অনেক  চেলা-চামুন্ডা থাকে? খুব বেপরোয়া ? যা খুশী তাই করে ফেলতে পারে এমন ভয়?

একবার দাঁড়িয়ে যাই, উপভোগ করি এদের পলায়নপর দৃশ্য ।

পশ্চিম পাকিস্তানের প্রয়ান ঘটেছিল কিভাবে ? কি অন্যায় করেনি পুর্ব পাকিস্তানের সাথে মানে আমাদের সাথে ? যখন থেকে পুর্ব পাকিস্তান তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তখন থেকেই কিভাবে পুর্ব পাকিস্তানকে লুন্ঠন করা যায় সেটাই ছিল তাদের মুল লক্ষ্য।

 

কিন্তু তারাও কি রক্ষা পেয়েছিল ? না,রক্ষা পায়নি বরং তাদেরকে লেজ গুটিয়ে চলে যেতে হয়েছিল, সারেন্ডার করতে হয়েছিল আমাদের কাছে। কেন চলে যেতে হয়েছিল কারন জনস্রোত ছিল তাদের বিরুদ্ধে এবং সে স্রোতের কাছে তারা ছিল একেবারেই নস্যি। রেহাই পায়নি তাই।

 

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদের কথা ধরুন । তিনি দীর্ঘ নয় বছর দেশ শাসন করেছেন । যা চেয়েছেন তাই করেছেন। মনে হয়েছিল তাঁকে থামাবার মতো কেউই দেশে নেই । কিন্তু তিনিও থেমে গিয়েছিলেন । কি ছিল না তাঁর? সবই ছিল । পুলিশ ছিল, বিডিআর ছিল,সেনা বাহিনী ছিল। নিজের দল ছিল, নিজের গুন্ডাপান্ডা ছিল। বিরোধী বিশ্বাস ঘাতকরা ছিল।

 

কিন্তু কিছুই তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি । তাকে যেতে হয়েছিল । কেন যেতে হয়েছিল? তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কি সমান্তরাল কোন বাহিনী গড়ে উঠেছিল ? না, একদমই নয় । বরং আবাল-বৃদ্ধ ভনিতার সম্মিলিত অংশগ্রহন তাকে পরাস্ত করেছিল । ধীর্ঘ নয় বছরের শাষনের অবসান ঘটাতে তিনিও বাধ্য হয়েছিলেন।

 

উপরের দুটো উদাহরন হয়তো অনেকের কাছেই প্রাসংগিক নাও লাগতে পারে কিন্তু কেবল সম্মিলিত অংশগ্রহনের মাধমে যে কোন বৃহৎ শক্তিকেও কাবু করে ফেলা যায় এটা বুঝাতেই এমন উদাহরনটা দিয়েছি।

আমাদের পাশে থাকা অফিস-আদালতের কোন কোন জায়গায় সেবার নামে আমাদের সাথে যাচ্ছে তাই আচরন করে যাচ্ছে এবং আমরা নীরবেই সব সহ্য করে যাচ্ছি। ইদানীং কোন কোন জায়গায় ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যে , স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব/কর্মচারীরাও জাতীয় পরিচয় পত্র ইস্যুর নামে বা সংশোধন করে দেয়ার  ক্ষেত্রে তাদেরই ইউনিয়নবাসী বা পাশের বাড়ীর লোকদের হয়রানী করে যাচ্ছেন, যা কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

আমাদের ভুমি অফিসে গেলে জনগনের অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। নতুন সরকার আসে, নতুন মন্ত্রী আসেন, অনেক আশার কথা বলেন, আমরাও আশাবাদী হই কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই তথৈবচ অবস্থা হয়ে যায়। কোন পরিবর্তন আর দেখা হয়ে উঠে না।

আমাদের হাসপাতাল, যা সৃষ্টিকর্তার পরেই মানুষের জীবন মরনের দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়েজিত, অথচ সীমাহীন অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতি মানুষের জীবনের দেখভালের পরিবর্তে জীবন সংহারে ব্যস্ত বলেই অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় ।  

দেশের কোন কোন জেলায় বা উপজেলায় মাঝে মাঝে কিছু ব্যক্তির/দায়িত্বশীলদের কিছু ইতিবাচক ভুমিকা মনে আশার সঞ্চার করলেও এটা যথেষ্ট বলে মনে হয় না কারন সেখানে সাধারন মানুষের খুব একটা অংশ গ্রহন থাকছে না। যাতে মনে হতে পারে ঐ ব্যক্তি হয়তো নিজের স্বার্থেই বা ভবিষতে আরো বড় মানুষ, বড় নেতা হওয়ার জন্য এসব করে যাচ্ছেন। আর যতো বড় মানুষ বা বড় নেতা হওয়া মানেই অন্যকিছু, যা দেশবাসী ইদানীং প্রত্যক্ষ করে যাচ্ছেন।

 

আমাদের দেশে দুর্নীতি আজকার অনেকটা শিল্পের পর্যায়ে চলে গেছে এবং সবাই এর পিছনে ছুটছে । কারো নুন্যতম লজ্জাবোধ থাকছে না । বড় বড় সচিবদেরকে অনুসরন করে ইউনিয়নের সচিবরাও দুর্নীতি আত্মস্থ করে চলেছেন। এমনকি প্রতিবাদকারীদের নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসছেন। যেন কেউ দেখার নেই।

 

তাই আমাদের দাঁড়িয়ে যাওয়া ব্যতীত আর কোন বিকল্প নেই। যার যার এলাকার অসংগতি-দুর্নীতি রোধকল্পে এখনই এবং এ মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে যেতে হবে। তবেই সুন্দর দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে, অন্যথায় প্রতি পদে পদে ভুগতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মও ভুগতেই থাকবে।

জামিলুর রহমান চৌধুরী

কিগালী, রুয়ান্ডা

 

 

 

 


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান