> রুমানা এখন কানাডায়, স্বপ্ন দেখছেন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার
> টরন্টোর স্কুলে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক
> চাকরী সম্পর্কে তথ্য দিতে নতুন ওয়েবসাইট করছে কানাডা সরকার
> রাস্তায় গাড়ী পার্কিং এর আগাম পারমিট ব্যবস্থা চালু হচ্ছে
> শিশুশিক্ষার ভিত্তি মজবুতে ইংল্যান্ডে নতুন উদ্যোগ
> প্রবাসী-আয়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬%
প্রবাসী-আয়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬%

সদ্য সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন (প্রবাসী-আয়) প্রায় এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এতে প্রবাসী-আয়ের (রেমিট্যান্স) বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
আগের অর্থার্যা ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রায় এক হাজার ৯৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। সে বছর প্রবাসী-আয়ে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তাঁরা পাঠিয়েছিলেন ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।
মাসভিত্তিক প্রবাসী-আয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় পাওয়া গেছে। আর সেপ্টেম্বর মাসে সর্বনিম্ন ৮৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের প্রবাসী-আয় এসেছে।
প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করছে বেশ কয়েক বছর ধরে। তবে এবার প্রবাসী-আয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। অন্যদিকে রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হলেও তার চেয়ে বেশি হারে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে অর্থবছরের সব হিসাব কষতে গেলে শেষ পর্যন্ত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত নয়, বরং কিছুটা ঘাটতি নিয়েই বছরটা শেষ হচ্ছে—এমন ধারণাই মিলছে।
২০১০-১১ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসের লেনদেনের ভারসাম্যের পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ১০ মাসের মানে জুলাই-এপ্রিল সময়কালের যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, এ সময়কালে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরেই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি। বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে, যা আর এবার ধরে রাখা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ ২০০৯-১০ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থার্যা ৩৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ২৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। এটি ছিল তার আগের অর্থবছর অর্থার্যা ২০০৭-০৮-এর ৬৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উদ্বৃত্তের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি।
গত এক দশকের প্রবাসী-আয়ের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গড়ে প্রতি চার বছরে প্রবাসী-আয় দ্বিগুণ হয়ে যায়। যেমন, গত ২০০৪-০৫ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী-আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি ডলার। এটি ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এসে দ্বিগুণ হয়েছে।
তবে উচ্চ হারে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার একাধিক প্রতিবেদনে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছে। প্রবাসী-আয় দেশের অর্থনীতির প্রাণসঞ্চারিণী হলেও উর্যাপাদনশীল খাতে এর সীমিত ব্যবহার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এর ফলে আর্থিক বাজারে বাড়তি তারল্য তৈরি হয় এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বাড়তি তারল্য থেকে রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ফাটকা বিনিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়।
আবার প্রবাসী-আয় কমে চলতি হিসাবে পিছিয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা অর্থার্যা টাকার মান ক্রমে নিম্নগামী হচ্ছে।
তবে এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ গতকাল সোমবার দিনের শুরুতে ছিল এক হাজার ৯১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অবশ্য এ পরিমাণ মজুদ দিয়ে দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে বলা হয়, সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকা স্বস্তিদায়ক।
অবশ্য এ মজুদেই বাংলাদেশ ব্যাংককে অনেক চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন সময়। ব্যবসায়ীদের চাপে ও রাজনৈতিক বিবেচনায় মূলধন হিসাবকে উন্মুক্ত করার দাবির সঙ্গে একাধিক মন্ত্রীও সোচ্চার।
সর্বশেষ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ফসলি জমি ইজারার নামে মূলধন নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা সরকারে সক্রিয় বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাদের নেতিবাচক মনোভাবের কথা ইতিমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো