২য় বর্ষ সংখ্যা ৪৯, জুলাই ০৬, ২০১১ । বুধবার 

শিশুশিক্ষার ভিত্তি মজবুতে ইংল্যান্ডে নতুন উদ্যোগ

 

নতুনদেশ ডটকম
ইংল্যান্ডে দুই বছর বয়সী শিশুদের দক্ষতা পরিমাপের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শিশুরা ভাব প্রকাশের জন্য মৌলিক শব্দগুলো ব্যবহার করতে পারছে কি না, পরিচিত শব্দ শুনে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছে কি না, প্রয়োজনে বা খেলার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে কিনা_এসব বিষয় যাচাই করার পদক্ষেপ নেবে তারা। পাশাপাশি প্রাক -বিদ্যালয় পর্যায়ে শিশুদের দক্ষতা বা যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য লেবার সরকারের আমলে যে ১১৭টি মানদণ্ড নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তা কমিয়ে সতেরোতে আনা হবে।
ব্রিটেনের শিশুদের প্রাক -প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কনজারভেটিভ -লিবারেল ডেমোক্র্যাট জোট সরকার। গতকাল বুধবার এ সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। একেবারে মৌলিক কয়েকটি ক্ষেত্রে শিশুদের সামর্থ্যের ব্যাপারে তাদের অভিভাবকদের লিখিত বিবৃতি জমা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের মা -বাবাকে এই বিবৃতি পাঠাতে হবে। মন্ত্রীরা দাবি করছেন, এর ফলে বেড়ে ওঠার শুরুর পর্যায়ে শিশুরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শিশুর বিশেষ কোনো যত্নের প্রয়োজন আছে কি না, তাও জানা যাবে।
সাবেক লেবার সরকার পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য 'ন্যাপি কারিকুলাম' নামের বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। ১১৭টি মানদণ্ডে শিশুর যোগ্যতা বিচারের প্রস্তাব ছিল তাতে। লেবার প্রবর্তিত ওই ব্যবস্থা ব্রিটেনের নার্সারি ও প্রি -স্কুলগুলোতে 'টিক -বঙ্' সংস্কৃতি চালু করেছে বলে অভিযোগ করে বর্তমান সরকার। শিশুর প্রাথমিক বিকাশে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা ফরম পূরণেই বেশি সময় পার করছেন বলে সমালোচনা করে তারা।
সাম্প্রতিক তথ্যে জানানো হয়, স্কুলে ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগ ও ভাষাগত মৌলিক দক্ষতা অর্জন না করেই ইংল্যান্ডের শতকরা ৪৪ ভাগ শিশু পড়াশোনা শুরু করে। জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০টি ছেলে শিশুর মধ্যে চারটি এবং পাঁচটি মেয়ে শিশুর মধ্যে একটিই পাঁচ বছর হওয়ার পরও ঠিকমতো কলম বা পেনসিল ধরতে পারে না। আর শিশুদের প্রায় অর্ধেকই পড়াশোনায় মন বসাতে হিমশিম খায়। তাই স্বাভাবিক বিকাশ বজায় রাখার জন্য ১৭টি মানদণ্ডে শিশুদের অগ্রগতি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লেবার প্রবর্তিত পদ্ধতিতে দেখা হতো জামা -কাপড় পরা, নিজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আধুনিক প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও নিজস্ব সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে শিশুরা কতটা দক্ষ। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে শিশুদের কথাবার্তা শোনা ও বলার দক্ষতা, মৌলিক অক্ষরজ্ঞান যাচাই করা হবে এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে। শিশুদের আবেগীয় ও মানসিক বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি নার্সারি ও শিশু মনস্তত্ত্ববিদের কাছে শিশুদের যাচাইপ্রক্রিয়া চালানো হতে পারে বলে মন্ত্রীরা পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই বছরের শিশুদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন বলেও প্রস্তাব করবেন তাঁরা।
কিন্তু এত অল্প বয়সেই দক্ষতা যাচাই করার বিষয়টি জীবনের শুরুতেই শিশুদের 'ব্যর্থতার' তকমা এনে দেবে বলে সমালোচনা করেন লন্ডনের রোহাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোথেরাপির শিক্ষক রিচার্ড হাউস। তিনি বলেন, 'প্রতিটি শিশুই ভিন্ন ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠে। কাজেই একটা নির্দিষ্ট বয়সে তাদের বিকাশ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা তৈরি করে নেওয়াটা বিপজ্জনক হতে পারে।'
শিশুবিষয়কমন্ত্রী সারাহ থিয়েটার বলেন, 'শুরুর কয়েকটি বছর মানুষের সারা জীবনের অর্জন ও সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই সময়টিকে তাই অবহেলা করা যাবে না। এ কারণে শুরুতেই উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা চালুর সমর্থন করছি আমরা।'
সূত্র : টেলিগ্রাফ, মেইল।