টাইমস স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু অর্জন, না অপমান?

Sun, Aug 15, 2021 4:48 PM

টাইমস স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু অর্জন, না অপমান?

সোহেল মাহমুদ

১. গ্রাফিক্সের একটা ব্যাকরণ আছে। ভয়েস ওভার যদি থাকে, তাহলে গ্রাফিক্সের টেক্সট ভয়েস ওভারে বর্ণিত শব্দের বেশি হওয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, টেক্সটে যা আছে, ভয়েস ওভারে সেটারই বর্ণনা করতে হবে। এর মানে, টেক্সটের শব্দ ভয়েস ওভারের সমান কিংবা এর কম হতে হবে।

২. ভয়েস ওভার যদি কোন কারণে না থাকে, কিংবা না বোঝা যায় বাইরের শব্দের তীব্রতার কারণে, তাহলে সেক্ষেত্রে গ্রাফিক্স কেমন হবে, সেটারও একটা ব্যাকরণ আছে। সেক্ষেত্রে, টেক্সটকে আরো বেশি প্রভাবদায়ী ও নজরকাড়া করতে হবে। যারা সম্প্রচারবিজ্ঞানে সামান্য জ্ঞান রাখেন, তারা এ বিষয়ে জানার কথা।

৩. স্বাভাবিকভাবে বললে, এক সেকেন্ডে দুইটা বাংলা শব্দ বলা যায়। শোনাও যায় দুইটা। ইংরেজি তিনটা। এটাও সম্প্রচারবিজ্ঞানের পাঠ। দেখে বোঝার বেলায়ও এমন। বিষয়টা এমন, আপনি কোন শব্দ শুনে, সাথে টেক্সট দেখে একটা বিষয় বুঝতে যা সময় লাগবে, শুধু টেক্সট দেখে বুঝতে সেটাতে আরো খানিক বেশি সময় লাগবে।

৪. বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে টাইমস স্কয়ারে যে উপস্থাপনা, সেটিতে আমি বড় কোন অর্জন দেখি না। আয়োজকরা দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে নাকি এ আয়োজনে সাফল্য অর্জন করেছেন। একটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বোর্ডে হাজার হাজার ডলার খরচ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। একটা বিজ্ঞাপনের স্থায়িত্ব ১৫ সেকেন্ড বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। দুই মিনিট পর পর এ বিজ্ঞাপন চলছে। ১৪ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ১৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। বিজ্ঞাপনটি দেখে কোনভাবে বোঝার উপায় নেই সেখানে কি বলা হচ্ছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে চেনেন, তাদের কাছে তার এ ছবি, ভাষণের ফুটেজ নতুন কিছু নয়। কিন্তু যারা তাকে চেনেন না, তারা কিভাবে চিনবেন? জানবেন? বাংলাদেশীদের বাইরে অন্যরা কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে চিনবেন? জানবেন? সম্ভব ছিলো। বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি আর তাকে নিয়ে সামান্য ক'টা শব্দ। ১৫ সেকেন্ডের কম সময়ে সেটি পড়ে ফেলা সম্ভব, এমন শব্দ। অথচ, সেটি করা হয়নি। পেশাদারিত্ব হেরেছে বাণিজ্যচিন্তার কাছে।

৫. বিজ্ঞাপনটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, বঙ্গবন্ধু বাঙালি নামে একটা জাতির জনক। বাংলাদেশ নামে একটা দেশের জন্মদাতা। বিশ্বজুড়ে শোষিতের বন্ধু ছিলেন। একটা দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনটাই শেষপর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছেন।

৬. টাইমস স্কয়ারে ডিজিটাল স্ক্রিনে হাজার হাজার পণ্যের বিজ্ঞাপনের শ' শ' ইমপ্রেশন প্রচার হয় প্রতিদিন। প্রতিটি সামান্য সময়ের জন্য। সেই অল্প সময়ে বিজ্ঞাপনের বিষয় উপস্থাপনে মুন্সিয়ানা দেখাতে হয়। সামান্য সময়ের মধ্যে পণ্যটাকে দর্শকের কাছে তুলে ধরতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য কি?

৭. বিশ্বজুড়ে শোষিতের কণ্ঠস্বর বলে পরিচিত, একটা জাতির জনক, একটা দেশের স্বাধীনতার স্থপতিকে টাইমস স্কয়ারে বিজ্ঞাপনী বোর্ডে দায়সারাভাবে উপস্থাপন অনেকের কাছে বিরাট অর্জন মনে হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে অপমান। আমেরিকান সরকার, আমেরিকার কোন স্টেটের সরকার, সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন স্বীকৃতি নয় এটি। বিজ্ঞাপন প্রচার আসলে কোন স্বীকৃতি নয়।

লেখক: সোহেল মাহমুদ, সাংবাদিক।

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট থেকে


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান