প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই ‘ক্রিমিনাল’?

Sat, Jul 17, 2021 12:45 AM

প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই ‘ক্রিমিনাল’?

শওগাত আলী সাগর: সারা দুনিয়ায় অনলাইনে কেনাকাটা এখন তুমুল জনপ্রিয়। কানাডায় আমাদের চেনাজানা অনেকেরই  দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে ‘আমাজন’। এর বাইরে কতো শত প্রতিষ্ঠান আছে- তার হিসাব নাই। কি নিশ্চিন্তে মানুষ এইসব প্রতিষ্ঠানে তাদের পছন্দের জিনিসপত্রের জন্য ক্রয়াদেশ দেয়। নিজের ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন দিয়েই সেখানে ক্রয়াদেশ দেয়া হয়।

বাংলাদেশের ইভ্যালি ঠিক একই ধরনের প্রতিষ্ঠান কী না তা আমি ঠিক ভালো জানি না। সত্যি বলতে কি ইভ্যালির দিকে তেমন একটা মনোযোগই দেইনি আমি। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এতো কথাবার্তা দেখে কয়েকটি খবরের দিকে চোখ বুলিয়েছিলাম। প্রথম আলোর একটি খবরে এসে চোখ আটকে গেলো। ‘ইভ্যালিসহ ১৪টি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি। এর মধ্যে ধামাকা নামের একটি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোর বিষয়েও একধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।’

তার মানে কী? বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটার প্রতিটি প্লাটফরম নিয়েই প্রশ্ন আছে? প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই ‘ক্রিমিনাল’?

যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই তো নির্দিষ্ট নিয়ম কানুনের ভেতর দিয়েই অনুমোদন পায়, তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কী সেই সব নিয়ম কানুনের ভেতর দিয়েই গেছে! এইসব প্রতিষ্ঠানগুলো কি রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে? একটি খাতের ২/৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠান এবং তার সাথে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু একটি খাতের সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে সরকারি ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে তদারকি ব্যবস্থা, নীতিমালা- এ সবের দিকেও নজর দিতে হয়।

অনলাইন দুনিয়ায় অত্যন্ত সফিস্টিকেটেড প্রতারণার জাল ছড়ানো আছে সর্বত্র।সেইসব জাল চিহ্নিত এবং ছিন্ন করার সক্রিয় ব্যবস্থা থাকতে হয়। সেটি যাতে হার দুনিয়ার ক্রেজ অনলাইন বিপনন ব্যবস্থাপনাটাকেই ক্রিমিনাল ঠাওরে না ফেলে সেদিকেও মনোযোগ রাখা দরকার।

লেখক: শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান