এভ্রিথিং ইজ রিলেটেড টু এভ্রিথিং এল্‌স্‌ 

Thu, Jan 28, 2021 3:36 PM

এভ্রিথিং ইজ রিলেটেড টু এভ্রিথিং এল্‌স্‌ 

লুৎফর রহমান রিটন : কানাডার ভোর দেখলাম গতকাল ২৭ জানুয়ারি। বহুদিন পর দেখা হলো ভোর। করোনার কালে আমার এখন সকাল হয় দেরিতে। সুতরাং রাতের ঘুমেরও হয় লেখাবাহুল্য বহু বহু দেরি। আগের রাতে প্রচুর বরফ পড়েছে। অটোয়ার চারিদিক শাদা বরফে ছেয়ে ছিলো।

ভোর ছ'টায় ট্যাক্সি ড্রাইভার এলো। জেনে নিলাম তার নাম মোস্তফা। তার্কিস। বললাম--হ্যাভ এ নাইস ডে।  গাড়ি স্টার্ট করার সময়ই মোস্তফা বললো--ইন্ডিয়া অর বাংলাদেশ? আমি বললাম, বাংলাদেশ।

মোস্তফা বললো--তোমাদের দেশের লোকজন আমাকে ব্রাদার বলে। আমি বললাম--আমাদের দেশের লোকেরা খুব ভাল। (কিন্তু আমার কাছ থেকে সেই ব্রাদার সম্বোধন না পেয়ে লোকটা কি কিঞ্চিৎ আশাহত? হতে পারে।)

আমি যাচ্ছি কুইন্সওয়ে কার্লটন হসপিটালে। আর কয়েক ঘন্টা পর আমাকে একটা সার্জারির মুখোমুখি হতে হবে। সকাল সাড়ে আটটায় আমি থাকবো সার্জনের ছুরি-কাচির নিচে। এটাকে বলে হার্নিয়া রিপেয়ার। ৩৭ বছর আগে, ১৯৮৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এই একই সার্জারি হয়েছিলো আমার। এটা একটা অদ্ভুত শারীরিক সমস্যা। নারী-পুরুষ সবারই হয়। এমনকি শিশুদেরও। সার্জারি ছাড়া এটাকে ঠিক করার উপায় নেই।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ডুকতেই শার্লী কল দিলো--কদ্দুর?

বললাম--এই তো ক্যাম্পাসে ঢুকে গেছি। এক মিনিট পরেই মেইন এন্ট্রান্স।

কল শেষ হতেই ড্রাইভার মোস্তফা খুব বিস্ময় প্রকাশ করলো--তোমার স্ত্রী? বললাম--হ্যাঁ।

মোস্তফা--তোমার স্ত্রী এতো ভোরেও নিচে নেমে এলো! সে তো লবি মেইন গেইট পার হয়ে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলো তোমাকে। এখন আবার ফোন করেছে! এমন দেখি না কিন্তু! 

বললাম--পাগলি আছে।

মোস্তফা--কানাডায় আমার বসবাস ঊনচল্লিশ বছর। ট্যাক্সি চালাই তেত্রিশ বছর। তোমাদের ঘটনাটা খুব রেয়ার। এই ধরণের পেসেঞ্জার এপার্টমেন্ট থেকে একাই নেমে আসে সাধারণত। মাঝপথে খবর নেয়া তো দূরের কথা। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখছি। তোমাদের কঞ্জুগাল লাইফ কতোদিনের?

বললাম--আমাদের বিয়ের পরের বছর তুমি কানাডায় এসেছো। এইবার গুইনা দেখো।

মোস্তফা উচ্চারণ করলো--চল্লিশ!

আশির দশকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রে একবার বক্তৃতা করতে এসেছিলেন দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম। সাধারণ ভাষা-ভঙ্গিতে অসাধারণ বক্তৃতা করছিলেন তিনি। সেদিন দর্শকসারির পেছনদিকে একজন মুগ্ধ শ্রোতা ছিলাম আমি। তাঁর বক্তৃতার একটা লাইন একটা বাক্য আমার করোটির ভেতরে চিরস্থায়ী ভাবে গেঁথে গিয়েছিলো সেদিন। তিনি বলেছিলেন--এভ্রিথিং ইজ রিলেটেড টু এভ্রিথিং এল্‌স্‌।

কুইন্সওয়ে কার্লটন হসপিটালে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি ইত্যাদি সারার পর চটপটে ইয়াং হাসিখুশি একজন নার্সের হাতে অর্পিত হলাম আমি। একটা চারচাকার বেডে শুইয়ে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে করতে প্রথমেই মেয়েটা বলেছিলো--মাই নেইম ইজ রেনি।

কী আশ্চর্য ঠিক সেই মুহূর্তে সরদার স্যারের 'এভ্রিথিং ইজ রিলেটেড টু এভ্রিথিং এল্‌স্‌' বলা ডায়ালগটা আমার ওপর ভর করলো। রেনি নামের এই মেয়েটার কথায় আমার মনে পড়ে গেলো ছেলেবেলার সহপাঠী রিনির কথা! রেনির মুখে এসে জুড়ে গেলো রিনির মুখটা। কচি-কাঁচার মেলার ছবি আঁকা আর গানের ক্লাশে রিনি ছিলো আমার সহপাঠী। থাকতো হাটখোলা অভয়দাশ লেনে। ১৯৭৩ সালে জয়কালী মন্দির রোডে কচি-কাঁচার মেলার একটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনার মিস্টার সুবিমল রায়। দাদাভাই আমার আঁকা একটা ছবি বড় একটা ফ্রেমে বাঁধাই করে আমার হাত দিয়েই সুবিমল রায়ের হাতে ছবিটা উপহার হিশেবে অর্পন করিয়েছিলেন। বালক আমার পাশেই হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিলো রিনি। এরকম একটা ছবি পরদিন দৈনিক ইত্তেফাকে ছাপা হয়েছিলো।

সরদার স্যারের কথাটা কী সুন্দর মিলে গেলো অটোয়ায় আমার সঙ্গে। সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর কোনো না কোনো যোগসূত্র থাকেই। থাকে মানুষের সঙ্গে মানুষের। ঘটনার সঙ্গে ঘটনার। চরিত্রের সঙ্গে চরিত্রের! এভাবেই তো নির্মিত হয় আমাদের স্মৃতি। নির্মিত হয় জীবনী। নার্স রেনি আমার হাতে আইভি স্যালাইন কানেক্টেড করলেন। শুরু হলো অপারেশনের প্রথম ধাপ।  

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন সার্জেন রন মনাহান। মনাহান আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করলেন। ওটিতে তিনি আজ কী কী করতে যাচ্ছেন আমার সঙ্গে তার সবকিছু বুঝিয়ে বলছিলেন যখন, তখন কী আশ্চর্য ডক্টর মনাহানের জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের 

মির্জা মাজহারুল ইসলাম নামের বিখ্যাত সার্জন। ভাষা সৈনিক ছিলেন। খুব ভালো মানুষ। আজ থেকে ৩৭ বছর আগে ১৯৮৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আমার হার্নিয়া সার্জারিটা তিনিই করেছিলেন। আমি তখন তরুণ লেখক। সেবার ঢাকা আমার ঢাকা নামে একটা বই বেরিয়েছে আমার।

অপারেশনের দু'দিন আগে তাঁর চেম্বারে গিয়ে আমি দেখা করে এসেছিলাম।  খানিকটা ভয় পেয়েছিলাম। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন--কোনো ভয় নেই। সেই ঘটনার পর অনেকগুলো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বিখ্যাত সেই মির্জা মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে এরপর আমার দেখা হয়েছিলো ২০০৮ কিংবা ২০০৯-এ। বিখ্যাত ডাক্তার-লেখক শুভাগত চৌধুরীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বারডেমের একটি অডিটোরিয়ামে গিয়েছিলাম। মঞ্চে আমার পাশের আসনে মির্জা মাজহারুল ইসলামও ছিলেন। আমি আমার বক্তৃতায় তাঁর সঙ্গে আমার হার্নিয়া সার্জারির স্মৃতিটা উল্লেখ করেছিলাম। খুব মজা পেয়েছিলেন তিনি এতো বছর পর, পঁচিশ ছাব্বিশ বছর পর তাঁর পেসেন্ট সেদিনের তরুণ লেখকটির দেখা পেয়ে।

কানাডার সার্জন রন মনাহান ফিরে এলেন মির্জা মাজহারুল ইসলামের জায়গায়। বললেন--ডোন্ট অরি। এভ্রিথিং উইলবি ফাইন।

পাওয়ারফুল পেইন কিলার চাইলাম। তিনি আশ্বস্ত করলেন। (মরফিন ট্যাবলেট বরাদ্ধ করেছিলেন তিনি প্রেসক্রিপশনে, সেন্স ফেরার পর থেকে যেটা আমি পাবো ব্যথা নাশক হিশেবে, কয়েকদিনের ডোজ হিশেবে)।

এনেস্থেটিক বিশেষজ্ঞ মিস্টার রেইগ এলেন। রেইগ আমাকে খুঁটিনাটি বুঝিয়ে বললেন কী কী ঘটবে একটু পরে আমার সঙ্গে। তিনি আমাকে অজ্ঞান করবেন। জানতে চাইলেন--ঘুম চাও নাকি লোকাল চাও? ঘুম চাইলে দেবো জি-এ মানে জেনারেল এনেস্থেশিয়া আর ঘুম না চাইলে লোকাল। লোকাল দিলে শুধু বডির নিচের অংশটা অবশ হবে। জাস্ট একটা ইঞ্জেকশন দিতে হবে তোমার স্পাইনে।

আমি বললাম--কোনটা ভালো?

রেইগ বললেন--দু'টোই ভালো। এখন তুমি কোনটা চাও বলো।

আমি ঘুমটাই বেছে নিলাম। শরীর কাঁটাছেঁড়া করার সময় জেগে না থাকাই ভালো।

কী আশ্চর্য এনেস্থেশিয়ান মিস্টার রেইগ-এর জায়গায় হঠাৎ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাম না জানা সেই ভদ্রমহিলার মুখটা এসে গেলো। তিনি আমার মুখে একটা যন্ত্র ঠেঁসে ধরার পর আমি শুধু ওয়ান টু থ্রি পর্যন্ত গুণতে পেরেছিলাম। তারপর সব ঝাপসা হয়ে গিয়েছিলো। ঝাপসা হয়ে গিয়েছিলেন মির্জা মাজহারুল ইসলাম। তারপর সেন্স ফিরতে আমার জেগে উঠতে সময় লেগেছিলো পাঁচ ঘন্টা!

কিছুক্ষণের মধ্যে নতুন নার্স এলো। কেটি। কেটি আমার চাকাওয়ালা বেডটা ঠেলতে ঠেলতে এই বারান্দা সেই বারান্দা এই ডান এই বাম করতে করতে নিয়ে এলেন ওটিতে। আমি হাত বদল হতে থাকলাম। ওখানে নতুন তিনজন

নার্সের হাতে অর্পিত হলাম ফের।

এখানে আগে থেকেই ছিলেন ডাক্তার রেইগ আর মনাহান।

রেইগ আমার শরীরে কি কি সব ফিট করালেন নার্সদের সহায়তায়।

আমার মনিটর অন হলো।

মনিটরে সময় সকাল ৮টা ৩৬।

মনিটরে নদীর হাসিমুখ আর শার্লির চিন্তিত মুখটা ভেসে উঠলো। এবং কী আশ্চর্য ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো সাগর ভাইয়ের কথা। আমি এখানে কানাডার হাসপাতালে আর সাগর ভাই আমেরিকার ম্যানহাটনের একটা হাসপাতালে। সরদার স্যার আমাকে পেয়ে বসেছেন আজ।

নিয়তি আমাদের নিয়ে কী সব খেলাই না খেলে!

ডাক্তার রেইগ বললেন--আমি তোমার হাতের আইভি কানেকশনে একটা সিরিঞ্জ পুশ করছি। তুমি খানিকটা শীতল ফিল করবে।

হ্যাঁ একটা শীতল প্রবাহ বয়ে গেলো আমার রক্ত প্রবাহে।

মনিটরের দিকে তাকাতে চেষ্টা করলাম। সকাল ৮টা ৩৭। তারপর হেইজি। ঝাপসা হয়ে গেলো আমার পৃথিবীটা।

৩ 

ঘুম ভাঙতে ভাঙতে ঘড়িতে সাড়ে দশটা। দুই ঘন্টা পর জেগে উঠলাম নার্সের ডাকে-- 

হ্যালো--হোয়াটস্‌ ইয়োর নেইম? এন্ড ইয়োর ডেট অব বার্থ?

কে আসবে তোমাকে পিক করতে?

আমি এখন ড্রাউজি। হেইজি। ঝাপসা। আসা যাওয়ার পথের ধারে। ঘোর কাটেনি পুরোপুরি। 

নার্স কেটি আবারো জিজ্ঞেস করলো

--হোয়াটস্‌ ইয়োর নেইম? এন্ড ইয়োর ডেট অব বার্থ?

কে আসবে তোমাকে পিক করতে?

নাম বললাম। জন্মতারিখও বললাম। দু'টোই সঠিক হয়েছে।

ফের জানতে চাইলো নার্স--কে আসবে তোমাকে পিক করতে?

বললাম--জিয়া।

স্পেলিংটা বলতে পারো?

বললাম--জিআইএউআর জিয়াউর আরএএইচএমএএন রহমান।

কেটি মাথা নাড়ালো--নোপ্‌। ট্রাই টু রিমেম্বার। দিস ইজ নট দ্যা সেইম গাই এজ রিটেন হিয়ার।

জিয়ার নামের স্পেলিংটা আমার ভুল হবার কথা নয়। কিন্তু হলো। কেনো হলো? এইখানে জিয়াউর রহমান এলো কেনো?

যে জিয়া আমাকে পিক করতে আসবে সে রহমান নয়। সে হক। জিয়া হক। আমি সংশোধনী দিলাম--সরি। জিয়া হক।  

নার্স খুশি হলো--গুড। ফাইলে তুমি জিয়া হাকই লিখেছিলে।

এরপর আড়াই ঘন্টা ধরে চললো পরবর্তী কার্যক্রম। পরীক্ষা নীরিক্ষা। আমাকে ফেরৎযোগ্য করা জন্যে।

আমার ব্যথার মাত্রা কমাতে আরো একবার পেইনকিলার বা ব্যথানাশক মেডিসিন প্রয়োগ করা হলো।

৪ 

অবশেষে নার্সের কল পেয়ে জিয়া এসেছে আমাকে পিক করতে।

এই জিয়া কানাডায় আমার অনুজপ্রতিম বন্ধু। একদা সহকর্মী।

এই জিয়া কোনো মেজর নয়। ক্যান্টনমেন্টে থাকে না বা ছিলো না। এই জিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের লোক। রসিক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের গ্রামেরই মনে হয়। এই জিয়ার পরনের পোশাক জলপাই রঙের নয়। ওর শীতের জ্যাকেটটা কালো। মুখেও কালো মাস্ক। গাড়ি চলছে। জিয়া ড্রাইভ করছে খুবই সতর্কতার সঙ্গে। তার গাড়িতে সদ্য সার্জারি সমাপ্ত হওয়া পেসেন্ট। 

জিয়ার গাড়িটা হঠাৎ করে এরোপ্লেন হয়ে গেলো। ছত্রিশ হাজার ফুট ওপর দিয়ে এরোপ্লেনটা উড়ে চলেছে। আমার পাশের আসনেই শার্লি। শার্লি সব সময় উইন্ডো সিট প্রেফার করে। ওপর থেকে আকাশ থেকে মেঘ দেখতে ওর ভালো লাগে।  বিমান উড়ছে। কানাডা থেকে উড়ে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হিউস্টন জর্জ বুশ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবে বিমান। ওখানে আমার অপেক্ষায় পায়চারী করছে নদী আর ডেভিড।

ডেভিট ওর প্রিয় গাড়িটা ড্রাইভ করছে আজকে। ওর প্রিয় গাড়িটার নাম মার্সিডিজ বেইঞ্জ। প্রতিদিন অফিসে যায় সে হুন্দাই চালিয়ে। শুধু ছুটির দিনে কিংবা অকেশনালি ওরা দু'জন কোথাও বেড়াতে গেলে মার্সেডিজটা চালায় সে। আমাদের দু'জনকে নিয়ে ওরা রওনা হয়েছে রোজেনবার্গের উদ্দেশ্যে। ওখানে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে কিটক্যাট আর ক্যাটবেরি নামের মায়াবী দু'টি বেড়াল ছানা।

এক বছর হলো আমি হিউস্টনে যেতে পারিনি। ক্যাটবেরির বয়েস মাত্র এক বছর হতে চললো। পিচ্চিটা বড় হয়ে যাচ্ছে আমার সঙ্গে দেখা হবার আগেই।

টিকটক টিকটক টিকটক।

টিকটক টিকটক।

টিকটক......

জিয়ার গাড়ি অটোয়া বেশোর ড্রাইভে, উডরিজ ক্রিসেন্টে, আমার এপার্টমেন্টের সামনে।

আমাকে রিসিভ করতে শার্লি দাঁড়িয়ে আছে হাসিমুখে।

অটোয়া ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

[আলোকচিত্র/ সাবরিনা নদী। অটোয়া ২০০৮]


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান