কানাডায় প্রতারণা, বাংলাদেশিদের সতর্কতার পরামর্শ

Fri, Dec 25, 2020 1:37 PM

কানাডায় প্রতারণা, বাংলাদেশিদের সতর্কতার পরামর্শ

নতুনদেশ ডটকম: বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার পরিচয় দিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের  সরকারি সংস্থার নাম করে চাইলেই টেলিফোনে কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ  না  দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, কানাডার সরকারি কোনো সংস্থা টেলিফোনে ব্যক্তিগত তথ্য চায় না বা  অর্থ পরিশোধ করতে বলে না। তারা সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে নাগরিকদের সাথে যোগযোগ করে।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টরন্টো থেকে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে  এই মতামত দেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম,সাইবার ফ্রড এবং ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন বিশেষজ্ঞ খালেদ শোয়েব, আইনজীবী ব্যারিষ্টার জয়ন্ত সিনহা এবং সাংবাদিক কিশোয়ার লায়লা।

নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর জানান, ইমিগ্রেশন, সার্ভিস কানাডা, রেভিনিউ কানাডা এমনকি আরসিএমপির নাম ভাঙ্গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে টেলিফোনে নাগরিকদের প্রতারিত করছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এই প্রতারনা সম্পর্কে সচেতন করে দিতে এই আলোচনার আয়োজন করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।  

ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম,সাইবার ফ্রড এবং ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন বিশেষজ্ঞ খালেদ শোয়েব তাঁর  আলোচনায় বলেন, সারা বিশ্বে ১০ হাজারের বেশি কল সেন্টার থেকে টেলিফোন কলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে  নাগরিকদের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। ইন্টারপোল এ ব্যাপারে সক্রিয় আছে। তবে নাগরিকদেরও সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, কানাডাসহ পশ্চিমাদেশগুলোর থার্ড পার্টি আউটসোর্সিং এর  সুযোগে এইসব দেশের  নাগরিকদের নাম টেলিফোন নম্বর বেহাত হয়ে গিয়ে থাকতে পারে।তিনি বলেন, এই প্রতারনার নেটওয়ার্ক সারা বিশ্বজুড়ে এবং তারা নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেই নাগরিকদের প্রতারনা করছে। আগামী ১০ বছর পর আরো উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা প্রতারনা করবে। সেজন্য প্রস্তুতির দরকার আছে।

খালেদ শোয়েব  বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি কোনো সংস্থা ফোন করলেই আতংকিত না হয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ করুন, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়োজনে কল ব্যাক নম্বর রেখে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে খোঁজ খবর করুন। তিনি বলেন,প্রতারকরা আপনাকে বিভ্রান্ত করতে গভীল আস্থার সাথে কথা বলবে, কিন্তু তাতে বিভ্রান্ত হলে চলবে না।  

ব্যারিষ্টার জয়ন্ত সিনহা তাঁর  আলোচনায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কিভাবে নাগরিকদের সাথে যোগযোগ করে বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা কিভাবে জানায় তার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টেলিফোনের মাধ্যমে কোনো আদালত বা আরসিএমপি  গ্রেফতারি পরোয়ানার তথ্য নাগরিকদের জানায় না, সরকারি কোনো সংস্থা  ক্রেডিট কার্ড, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা গিফট কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে না।

ব্যারিষ্টার জয়ন্ত সিনহা বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার ধরন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারনা না থাকায় অনেকেই সরকারি সংস্থার টেলিফোন পেয়েই আতংকিত হয়ে পরেন। তিনি আতংকিত না হয়ে খোঁজ খবর করার পরামর্শ দেন। তিনি টেলিফোনে  অর্থ বা নিজের ব্যাক্তিগত গোপনীয় তথ্যাদি  কাউকে না দেয়ার জোড় পরামর্শ দেন।

সাংবাদিক কিশোয়ার লায়লা তার আলোচনায় নাগরিকদের বিশেষ করে নতুন আসা অভিবাসীদের প্রতারনামুলক কর্মকান্ড সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত  করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন সেটেলমেন্ট সংস্থা নতুন অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে। তারা প্রতারণা ধরন  এবং করণীয় সম্পর্কে নতুন অভিবাসীদের তথ্য দিয়ে  সচেতন করে তুলতে পারে। তা ছাড়া  বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এবং ফেসবুক ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপগুলোও কার্যকর সচেতনতামূলক ভূমিকা রাখতে পারে।  


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান