উচ্চশিক্ষা গ্রহণে জাগ্রত থাক তরুণ মনের স্বপ্ন

Mon, Nov 2, 2020 12:06 AM

উচ্চশিক্ষা গ্রহণে জাগ্রত থাক তরুণ মনের স্বপ্ন

জুলফিকার বকুল :আত্মিক পরিশুদ্ধতায় সত্বার জাগ্রত রুপ সৃষ্টিতে শিক্ষার বিকল্প নেই।তাই শিক্ষার অন্তর্নিহিত বিশ্লেষণ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ডের মত কাজ করে।একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি গঠনে শিক্ষাই মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।তাই মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত মেধাবীরাই এর ধারক ও বাহক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এই মেধাবী শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরীতে একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেমন প্রগতিশীল ও বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন তেমনি ব্যক্তি জীবনেও দেশপ্রেম ও চিন্তাশীল মননে প্রজ্ঞা নিয়ে নিজেকে তৈরী করা একজন সুনাগরিকের প্রত্যাশা হওয়া উচিৎ।যেহেতু Quality education for better life তাই এমন গুণ সম্পন্ন চিন্তাধারার শিক্ষা গ্রহণ ব্যক্তি উন্নয়নের মধ্যদিয়ে দেশের উন্নয়ন সাধন করবে।বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, " তাকেই বলি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, যা কেবল তথ্য পরিবেশন করে না,যা বিশ্ব সত্বার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে"।আজকের প্রজন্ম একদিন দেশ সেবার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে উন্নতির স্বর্ণ শিখরে।যেখানে দুরন্ত সাহস ও তেজদীপ্ত মেধা দিয়ে সততা, দক্ষতা এবং কঠোর দায়িত্ববোধ প্রয়োগ করে নিজেকে বিচক্ষণ করে গড়ে তুলবে অসীম সম্ভাবনাময় আজকের প্রজন্ম। এই সম্ভাবনার সম্পদকে সম্পত্তিতে পরিনত করতে প্রয়োজন শিক্ষার বহুমূখী প্রসার ও বাস্তবায়ন।

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সারা বিশ্বেই শিক্ষাক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তাই ক্লাস,পরীক্ষা, প্রশিক্ষন সহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা।  করোনাকালীন শিক্ষা সচল রাখতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।কিন্তু দীর্ঘ সময় এই ক্রান্তি কাল অব্যাহত থাকলে সেসন জট সহ বাড়তে পারে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশংকা। বাধ্য হয়েই পূর্ববর্তী শ্রেণির মূল্যায়ণ ও অ্যাসাইন্টমেন্ট এর ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে শিক্ষার্থীরা।এক্ষেত্রে শুধু আনুষ্ঠানিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে হবেনা। শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। কোন পরীক্ষা দিয়ে এর পরিধি নির্ণয় করা যায় না। পৃথিবীতে অনেক মনীষীদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।আব্রাহাম লিঙ্কন সৎ মায়ের আগ্রহে লিখতে,পড়তে শিখেছেন। পরবর্তীতে তিনি লিখেছেন, 'আমার স্কুল জীবন সর্বসাকুল্যে এক বছরের বেশি নয়'।কাজেই পরীক্ষা কেন্দ্রিক পড়ালেখার মানসিকতা বর্জন করে স্ব শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের অদম্য মনোবল এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত সফলতা,একটি কাঙ্ক্ষিত জীবন ব্যবস্থা।এজন্য শিক্ষার্থীকে হতে হবে আত্মপ্রত্যয়ী,পরিশ্রমী, অধ্যাবসায়ী ও অনুসন্ধিৎসু। তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে ঘরে বসেও নিয়মিত সাময়িক অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পাওয়া দুষ্কর নয়। কিন্তু সমস্যা হলো উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের মতামত পেশ করেছেন।যা উচ্চশিক্ষা অর্জনে কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা ভাবার বিষয়। মানসম্মত উচ্চশিক্ষার প্রবনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীর জন্য সহজ ও অনুকূল পন্থা নির্ণয় করা প্রয়োজন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নের পূর্ণমান কমিয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ণের কথা বলেছে।এক্ষেত্রে সিলেবাস কমানো হবে কিনা, স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা নেয়া যদি সম্ভব না হয় তাহলে বিকল্প কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তার কোন সুস্পষ্ট মতামত জানা যায়নি।তবে অনলাইন পরীক্ষার কথাও কোন কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।অনলাইন পরীক্ষায় কতোটা মেধা মূল্যায়ণ করা সম্ভব তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনলাইন পরীক্ষার সাথে ডিভাইস( যেমন- এন্ড্রয়েড মোবাইল, কম্পিউটার), নেটওয়ার্ক, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সম্পৃক্ত। শিক্ষার্থী যদি হয় করোনা আক্রান্ত অথবা আক্রান্ত কোন পরিবারের সদস্য তাহলে হয়তো পরীক্ষায় অংশগ্রহণই তার পক্ষে সম্ভব হবে না।অনেক শিক্ষার্থীর ভাল রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতি বিঘ্নিত হওয়ায় হয়তো স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।মানসিক মনোবল হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে তার আগামী দিনের স্বপ্ন। তাই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে অন্যান্য দেশের ন্যায় উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে মেধাবী ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্র তৈরি করার যুগোপযোগী পদক্ষেপ বিচক্ষণতার সহিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিতেই পারে।সরকার যদি এইচ,এস,সি পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ফলাফল পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর আলোকে তৈরী করার প্রস্তুতি নিতে পারে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এমন একটি রোডম্যাপ তৈরী করতে পারে।

আমেরিকান সেন্টারের ওয়েবসাইটে সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য পাঁচটি গাইডলাইন দেয়া আছে।তার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার কথা উল্লেখ নেই।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য কেবল আইইএলটিএস এবং এইচ,এস,সি পরীক্ষার জিপিএ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য তরুনদের আগ্রহী ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করোনাকালীন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রেখে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন এমনটিই প্রত্যাশা করছি।

লেখক: জুলফিকার বকুল,শিক্ষক, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল, গাজীপুর।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান