ভারত সরকার প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতি : একটি সাধারন পর্যালোচনা

Wed, Aug 19, 2020 12:55 PM

ভারত সরকার প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতি : একটি সাধারন পর্যালোচনা

বিজন বিহারী শর্মা: ভূমিকাঃ  বর্তমানে ভারতে যে শিক্ষানীতি প্রচলিত তা ১৯৮৬ সালে প্রনীত হয়। এর দীর্ঘকাল পর এই বৎসর ভারত সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং এই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি নিয়োগ করেন। ভারত সরকারের মন্ত্রীসভা ২৯শে জুলাই ২০২০ তারিখে এই কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই কমিটির রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশিত হয়েছে। ভারত সরকারের  প্রধানমন্ত্রী  এই বিষয়ে আগ্রহী সকল মহলের কাছ থেকে সমালোচনা বা বিকল্প প্রস্তাব আহবান করেছেন।

এই প্রবন্ধে আমি এই প্রস্তাব সম্বন্ধে আমার মত এবং যে ক্ষেত্রে আমার মত নাই সেক্ষেত্রে তার কারন ও বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেছি। এন-ই-পি বিষয়ে পত্রপত্রিকায় প্রধানতঃ পনেরোটি প্রধান বিষয় প্রকাশ করা হয়েছে। এই পনেরোটি বিষয়ের মধ্যে আমি ছয়টি বিষয়ে পূর্ন সমর্থন জানাচ্ছি, চারটি বিষয়ে সাধারন ভাবে বলার কিছু থাকতে পারে না, আর বাকী পাঁচ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। যে যে বিষয়ে আপত্তি আছে তার কারন এবং বিকল্প প্রস্তাবওঃ নীচে দেয়া হলো ।

 

(০১) যে সব বিষয়ে পূর্ন সমর্থন আছে সেগুলি হলোঃ (ক) সব স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষায় শিশুদের মাতৃভাষা কিংবা যেকোনও একটি স্থানীয়/আঞ্চলিক ভাষাকে বাধ্যতামূলক করা । (খ) তিন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সের সব শিশুর জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। (গ) জাতীয় মূল্যায়ন কেন্দ্রের অধীনে বোর্ড পরীক্ষা আগের মতোই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীতে অনুষ্ঠিত হওয়া। (ঘ) মাস্টার্স হবে এক বতসরের। (ঙ) স্নাতকোত্তর  শেষ করেই ছাত্রছাত্রীরা পিএইচডি করতে পারবে(ছ) কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে কঠোর পার্থক্য করা হবে না

 

(০২) প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির যে সব আমাদের তেমন কিছু বলার থাকতে পারে না, সে গুলি হচ্ছেঃ (ক) নতুন শিক্ষানীতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির চাপ কমানো। (খ) হাতে কলমে শিক্ষার উপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে (গ) ভোকেশনাল কোর্সের প্রতিও অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছেঅর্থাৎ, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করে দ্রুত চাকরির সুবিধার কথা ভাবা হয়েছে (ঘ) বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, নতুন শিক্ষানীতিতে স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমানো যাবে এগুলি সবই তাদের পরিকল্পনা, চিন্তা বা আশাবাদ ।

 

(০৩) প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির যে সব বিষয়ে আপত্তি রয়েছে সেগুলি হলোঃ (ক) বর্তমানে প্রচলিত ৫+৫+২+৩=১৫ এর পরিবর্তে ৫+৩+৩+৪=১৫ চালু করা ।(খ) ষষ্ঠ   শ্রেণী থেকে ইন্টার্নশিপসহ ভোকেশনাল শিক্ষা । (গ) শিক্ষার্থীদের  প্রতিবছর পরীক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে মোট তিনবার পরীক্ষা নেয়া । (ঘ) প্রতিবছর   নিয়মিত ও কাঠামোগতস্টাইলে মূল্যায়ন করা এবং এর ভিত্তি বিশ্লেষণ  চিন্তার সক্ষমতা এবং ধারণা স্পষ্টকরণের সক্ষমতা (ঙ) মাধ্যমিক স্তর থেকেই যে কোনও বিদেশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা ।

 

নীচে এগুলির ব্যাপারে আমাদের আপত্তির কারন এবং আমাদের বিকল্প প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ।

 

(ক) বর্তমানে প্রচলিত ৫+৫+২+৩=১৫ এর পরিবর্তে ৫+৩+৩+৪=১৫ চালু করা ঃ

আমাদের দেশে অনেক কাল আগে থেকেই ৫+৫+২+৩=১৫ প্রচলিত আছে । এখন পর্য্যন্ত ভারত এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তা হলো, “তিন বছরের স্নাতক কোর্স”। শিক্ষানীতির প্রস্তাব অনুযায়ী এটি চার বৎসর করা যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বাকী ১১ বৎসর সময়কাল যেভাবে ভাঙ্গা হয়েছে (অর্থাৎ, ৫+৩+৩) তার পেছনে কোন যুক্তি বা কারন খুঁজে পাওয়া যায় না।  

 

বিকল্প প্রস্তাবঃ      এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তাব, মোট সময়কাল ১৫ বৎসর এবং স্নাতক ৪ বছরের রেখে, বাকী সময়কালকে ৪+৩+২+২=১১, এভাবে সন্নিবেশিত করা হোক। এখানে প্রথম ৪ বৎসর হবে প্রাথমিক শিক্ষা । এরপর ৩ বছর স্কুল শেষে সপ্তম  শ্রেনীতে হবে বোর্ড পরীক্ষা হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্নদের প্রথম সার্টিফিকেট দেয়া হবে। যাদের এই সার্টিফিকেট থাকবে কেবলমাত্র তারাই বিভিন্ন ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হতে পারবে। এই সার্টিফিকেট যারা পাবে, তারা সর্বোচ্চ দশ বৎসর বিরতিকালের মধ্যে যে কোন সময় আবার স্কুলে ভর্তি হয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। অষ্টম ও নবম এই দুই শ্রেনীতে স্কুলে পড়ার শেষে নবম শ্রেনীতে আবার হবে বোর্ড পরীক্ষা এবং দেয়া হবে দ্বিতীয় সার্টিফিকেট ।  এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ন হবে কেবলমাত্র তারাই পলিটেকনিকে ভর্তি হতে পারবে। আগের মতই, এই সার্টিফিকেট যারা পাবে, তারা সর্বোচ্চ দশ বৎসর বিরতিকালের মধ্যে যে কোন সময় আবার স্কুলে ভর্তি হয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

 

এরপর ২ বৎসর স্কুল শেষে একাদশ শ্রেনীতে বোর্ড পরীক্ষা হবে এবং দেয়া হবে তৃতীয় সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেটধারীরা ৪ বৎসর মেয়াদী স্নাতক, ৪ বা ৫ বছরের  ইঞ্জিনীয়ারিং অথবা ৫ বছরের মেডিকেল স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে পারবে। এই সার্টিফিকেট যারা পাবে তারা সর্বোচ্চ পাচ বৎসরের মধ্যে সাধারন স্নাতকে ভর্তি হতে পারবে। তবে, মেডিকেল, ইঞ্জিনীয়ারিং না কৃষিতে ভর্তি হতে হলে সর্বোচ্চ তিন বৎসরের মধ্যে ভর্তি হতে হবে।

 

উপরে যে প্রস্তাবগুলি দেয়া হয়েছে, তার কারনগুলি সংক্ষেপে বলা যাক।

(১) ভারতের মতন একটি জনসংখ্যাবহুল এবং সীমিত সম্পদের দেশের জাতীয় শিক্ষা নীতিতে এমন ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে যাতে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র শ্রেনীর  মানুষ কম সময়ে তাদের সন্তানদের উপার্যনক্ষম করতে পারে ।

(২) অল্প সময়ে কর্মক্ষম হতে হলে তাদেরকে সাধারন শিক্ষা শিক্ষা নয়, বরং কারিগরী শিক্ষা গ্রহন করতে হবে।

(৩) বর্তমানে দুই ধরনের কারিগরী শিক্ষা আছে । একটি ভোকেশনাল, অন্যটি টেকনিক্যাল বা পলিটেকনিক। ধরা যাক, একটি ছেলে ভোকাশনাল পাশ করে আর পড়া শোনা করবে না। এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষানীতিতে এই ছেলেটিকে এমন সাধারন শিক্ষা দেয়া উচিত যাতে সে একটি সংসারের কর্তাব্যাক্তি হয়ে সুন্দর ভাবে সংসার নির্বাহ করতে পারবে, দেশের একজন নাগরিক হয়ে উঠতে পারবে। একই সংগে ইচ্ছা বা সুযোগ হলে সে উচ্চতর শিক্ষাও নিতে পারবে। সপ্তন শ্রেনীর নীচে তাকে এই মানের শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। 

(৪) শিক্ষা নীতিতে ষষ্ঠ শ্রেনীতে  ভোকেশনাল শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। এটি একটি মারাত্মক ভুল।  কারন, একজন ছাত্রকে ষষ্ঠশ্রেনীতে যে বিদ্যা দেয়া সম্ভব তাতে তার পক্ষে একজন দায়িত্বিশীল পিতা বা সুযোগ্য নাগরিক হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আবার একটি ষষ্ঠশ্রেনী পাশ ছেলের যে শারীরীক সক্ষমতা তাতে তার পক্ষে সব ভোকেশনাল ট্রেনিং গ্রহন করাও সম্ভব নয়।  

 

(খ) ষষ্ঠ  শ্রেণী  থেকে ইন্টার্নশিপসহ ভোকেশনাল শিক্ষা ।

এই বিষয়টি আমরা উপরে আলোচনা করেছি। অতিরিক্ত যে কথা আমরা বলতে চাই তা হলো, বর্তনামে সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কারিগরী কাজগুলি অশিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিত লোকেরা সামান্য ট্রেনিং নিয়ে করে থাকে । এর ফলে একদিকে যেমন এদের স্বল্প বিদ্যার কারনে প্রতিষ্ঠান নানা সমস্যায় ভোগে, অন্য দিকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন যাত্রার মান একটা নির্দিষ্ট বৃত্তে, বা বলা চলে একটা নীচু স্তরে চিরতরে বাধা পড়ে যায়। এদেরকে উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। উপরে প্রস্তাবিত প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সার্টিফিকেট একদিকে যেমন তাদেরকে আত্মমর্য্যাদা এনে দেবে, তেমনি তাদের উন্নত স্তরে যাবার পথও খুলে দেবে। 

 

(গ) শিক্ষার্থীদের  প্রতিবছর  পরীক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে মোট তিনবার পরীক্ষা নেয়াঃ

আমাদের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্কুলে প্রতিবছর পরীক্ষা  না নেবার সিদ্ধান্ত হবে একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বনাশ ডেকে আনবে। এর কারন হলো, যদি এক, দুই বা তিন বছর স্কুলে কোন পরীক্ষা না নেয়া হয়, তাহলে আমাদের দেশের (১) ছাত্ররা এই সুযোগ গ্রহন করে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হবে এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকবে, (২) শিক্ষকেরা পড়ানোর কোন চাপ অনুভব করবে না, (৩) ছাত্র এবং শিক্ষকেরা মনিটরিং ও মূল্যায়নের জন্য যে  নিয়মিত ও কাঠামোগতস্টাইলে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে তার সহজ বিকল্প বের করে ফেলবে, (৪) নোট বই লেখকেরা এক, দুই বা তিন বছর বাদে যে ক্লাশে স্কুলে পরীক্ষা হবে সে ক্লাশের পরীক্ষার জন্য সহজ নোট বই প্রকাশ করবে এবং (৫) শিক্ষক বা গৃহ শিক্ষকেরা যে বৎসর পরীক্ষা হবে ছাত্রদেরকে সেই ক্লাশের কোর্স পড়াতে থাকবে। এর ফলে ছাত্রদের জন্য যে সিলেবাস করা হয় তার বিপুল অংশই থেকে যাবে ছাত্রদের অজানা।

 

এখানে উল্লেখ করা যায় যে, এমন হতে পারে যে, যে দেশ থেকে শিক্ষানীতির এই নিয়ম তুলে আনা হয়েছে সেই দেশের সামাজিক পরিস্থিতি, স্কুলের লজিস্টিক সাপোর্ট, শিক্ষক ও ছাত্রদের সততার লেভেল, সরকারের বাধ্যবাধকতা এবং স্কুলের নিয়মানুবর্তিতার কারনে সেখানে এই নিয়ম বেশ  ভালো চলে। কিন্তু আমাদের দেশের সামগ্রিক বাস্তবতায় এই নিয়ম ভালোভাবে তো দূরের কথা, সাধারনভাবেও চলবে না। শিক্ষার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।  

 

বিকল্প প্রস্তাবঃ       এই বিষয়ে আমাদের প্রস্তাব, স্কুলে পঞ্চম শ্রেনী থেকে প্রতিটি শ্রেনীতে সাধারনভাবে প্রতি দুই মাসে একটি লিখিত পরীক্ষা, বৎসরের মাঝামাঝি একটি টারমিনাল পরীক্ষা এবং বৎসরের শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে হবে। তবে যে যে ক্লাশে বোর্ড পরীক্ষা আছে সে ক্লাশে স্কুল ফাইনাল হবে না। স্কুলের পরীক্ষা বর্তমান নিয়মে স্কুল বন্ধ করে, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ছুটি দিয়ে তারপর একসাথে পরীক্ষা হবে না। বরং কোন শিক্ষক তার বিষয়টি কিছুদুর পর্য্যন্ত পড়ানো হয়ে গেলেই বৎসরের প্রথম থেকে এই পর্য্যন্ত পড়ানো অংশের পরীক্ষা একটি পূর্ব ঘোষনা দিয়ে শ্রেনী কক্ষেই নেবেন। এই প্রয়োজনে ক্লাশে একজন অতিরিক্ত শিক্ষক থাকবেণ। ভবিষ্যতে পূরো পরীক্ষাটি ভিডিও করে রাখতে হবে এবং তা স্কুলে সংরক্ষন করতে হবে ।

 

এটা মনে রাখা ভাল যে শিক্ষার মূল কথা হচ্ছে “নিখুত ছাত্র গড়ার কারিগর হলো লেখা” (Writing makes a man perfect). ছাত্রকে বইএর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিছু বিষয় শিখতে বলা হয়েছে। শিক্ষক ছাত্রকে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন ছাত্র তা বুঝেছে কি না, বা কতটা বুঝেছে এবং কত ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারছে তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমান  হচ্ছে, লিখিত পরীক্ষা । তাই আমাদের সুচিন্তিত প্রস্তাব, স্কুলে ক্লাশে মাঝে মাঝেই পরীক্ষা নিতে হবে এবং সেই খাতার নিরপেক্ষ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে।       

             

খাতা মূল্যায়ন কেন্দ্রঃ উপরে যে সমাধানের কথা বলা হয়েছে তার প্রধান সমস্যা কি তা আমরা জানি। এর প্রধান সমস্যা হলো, খাতা দেখা বা মূল্যায়নের কাজ। আসলেই এটি একটি বড় সমস্যা, য়ার স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বেশী হলে তো কথাই নাই। আমরা জানি, বিদেশে যারা স্কুলের পরীক্ষা কমিয়ে বা বাদ দিয়ে বিকল্প নিয়মিত ও কাঠামোগত স্টাইলে মূল্যায়ন’ এর কথা বলেছেন তারা এই খাতা দেখার সমস্যার কারনেই এসব বিকল্প নিয়ম চালু করেছেন, যদিও তাদের সবাই জানেন, খাতায় পরীক্ষা নেয়া এর চেয়ে অনেক ভালো মূল্যায়ন পদ্ধতি । আমাদের দেশে আমরা কিন্তু খুব সহজেই ভালো পদ্ধতিটি অনুসরন করতে পারি। সৌভাগ্যবশতঃ আনাদের দেশে সেই সুবিধা আছে। আর অধিকাংশ উন্নত দেশে সেই সুবিধা নেই।    

 

আমাদের প্রস্তাব, দেশের প্রতিটি থানা সদরে শিক্ষা বিভাগের উদ্দোগে একটি “পরীক্ষার খাতা মুল্যায়ন কেন্দ্র” প্রতিষ্ঠা করা হোক। ছোট একটি অফিস কক্ষে একজন কর্মকর্তা, একজন কেরানী এবং একজন দারোয়ান দিয়েই এই কেন্দ্র চালানো সম্ভব। আমাদের দেশে প্রতিটি থানা সদরে অন্তত কয়েক শ’ শিক্ষিত লোক পাওয়া যাবে, স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ের খাতার মূল্যায়ন করার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাদের আছে। অবশ্য তাদের সকলেরই একটু ট্রেনিং এর প্রয়োজন হতে পারে।   যারা সরকারী বা বেসরকারী চাকুরী থেকে রিটায়ার করেছেন, অথবা বেকার রয়েছেন, অথবা গৃহকাজে নিয়োজিত আছেন তারা কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এমন কাজ, যা তারা ঘরে বসেই করতে পারবেন, তা করতে পারলে বরং খুশী হবেন।   খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার নিয়ন্ত্রন। কোন স্কুলের পরীক্ষা হয়ে গেলেই পরীক্ষার হলের ভিডিও সহ খাতা স্কুল থেকে জেলা অফিসে পাঠানো হবে। জেলা অফিসার তার সুবিধা মত থানায় তা প্রেরন করবেন। খাতা সহ নম্বর ফেরত এলে তিনি কপি রাখে নম্বর স্কুলে পাঠাবেন। আমাদের শিক্ষা বিভাগে এখন সুপারভিশন করার জন্য অনেক জনবল আছে। কিন্তু এই ব্যাবস্থা চালু হলে স্কুল, শিক্ষক এবং ছাত্রদের মূল্যায়নের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাবস্থা হবে এইটি।  এই ব্যবস্থা আমাদের দেশের মান উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল  ভূমিকা রাখতে সক্ষম ।   আমি শিক্ষা  বিভাগকে এই “পরীক্ষার খাতা মুল্যায়ন কেন্দ্র” সম্বলিত নিয়মটি গ্রহন করার জন্য একান্ত ভাবে অনুরোধ করছি।       

(ঘ) প্রতিবছর  ‘নিয়মিত ও কাঠামোগত’ স্টাইলে মূল্যায়ন করা ঃ এটিতে আমার ভিন্নমতের কারন এবং আমার বিকল্প প্রস্তাব উপরে বর্ননা করা হয়েছে। 

 

(ঙ) মাধ্যমিক স্তর থেকেই যে কোনও বিদেশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক । আমি মনে করি, এটি আমাদের দেশের ছাত্রদের পক্ষে অপ্রয়োজনীয়। কেবলমাত্র ভালো ইংরেজী জানলেই তারা দেশে এবং বিদেশে তাদের লেখাপড়া ও জীবনযাপন ভালো ভাবে চালিয়ে নিতে পারবে। এর বাইরে সব রাজ্যে সংস্কৃত ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে চালু করা হবে কি না তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।   


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান