একটা রাষ্ট্র কী ভাবে শুধু সরকারি লোকদের সুবিধা দেয়?

Fri, Apr 24, 2020 12:48 AM

একটা রাষ্ট্র কী ভাবে শুধু সরকারি লোকদের সুবিধা দেয়?

মাহমুদ হাসান: ডাক্তার মইনুদ্দিন এক সপ্তাহ হল মারা গেছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তিনি 'বেসরকারি' হাসপাতালের ডাক্তারও ছিলেন না, সরকারি হাসপাতালেরই ডাক্তার ছিলেন, ছিলেন সহকারী অধ্যাপক।

এখন, একটা সরকার শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবিদের সুবিধা দিলে সেটা সরকারি চাকরিজীবিদের সরকার হয়, আপামর জনগণের সরকার হয় না। একটা আপামর জনসাধারণের সরকার সবার জন্য ভাববে, সবাইকে সুবিধা দিবে। কাজেই করোনায় আক্রান্ত হলে সকল সরকারি চাকরিজীবিদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার এই চিন্তা ভাবনা খুবই স্থূল চিন্তা। এটা হওয়া উচিৎ ছিল - সরকারি হোক কি বেসরকারি, সকল ডাক্তার-ইন্টার্ন-নার্স-আয়া-বুয়া-পিয়ন সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সকলের জন্য করোনায় আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং আল্লাহ না করুক মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রী যদিও কিছুদিন আগে বলেছেন যে করোনায় চিকিৎসা যাঁরা করবেন তাঁদেরকে অনুপ্রেরণা দিতে প্রণোদনা দেয়া হবে, কিন্তু সেটা কী ধরণের, পরিমাণ কত, কারা পাবে সেই রকম কোন বিস্তারিত আমরা এর পরে আর পাইনি। অথচ এদিকে সরকারি চাকরিজীবিদের সকলকে গ্রেড অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে কত টাকা ক্ষতিপূরণ কারা পাবেন সেটা বিস্তারিত চলে এসেছে।

 

এখন একজন বেসরকারি হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক বা নার্সের করোনায় আক্রান্ত হবার যেই সম্ভাবনা, একজন সরকারি চাকরিজীবি শিক্ষকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কিন্তু সেই সম্ভাবনা নাই। শিক্ষক যদি তার পরও আক্রান্ত হয়েই যান সেটা অন্য কোন ভাবে দুর্ভাগ্যবশতঃ হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স যে করোনা রোগীর এক্সপোজার থেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন সেটা একেবারে শতভাগ নিশ্চিত থাকা যায়। তাহলে একজন কপালের ফেরে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে অফার করা হচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা, আর একজন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মরে গেলেও কিছুই পাচ্ছে না। রাষ্ট্রের দুজন ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্রের এ কেমন বৈষম্যমূলক আচরণ? সরকারি চাকরিজীবি নয়, তাই ক্ষতিপূরণ প্রদান শুধুমাত্র রোগীদের সরাসরি সংস্পর্শে যাঁরা আসছে তাঁদেরকে দেয়া প্রয়োজন, এখানে সরকারি বেসরকারি দেখার সুযোগ নেই।

 

প্রশাসন ক্যাডারের গুটিকয় লোকজন আক্রান্ত হওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে কেন এই ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে আমরা জানি না, তবে এই প্যাকেজের ফাঁক গলে একই কুমীরের ছানা বহুবার দেখানোর সুযোগ রয়েছে। একবার করোনা আক্রান্ত হলে পরে আবারও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে কেউ যদি দুবার আক্রান্ত হয় তাহলে ১০+১০ বিশ লাখ টাকা পেল, তারপর তৃতীয়বার আবার আক্রান্ত হয়ে পেল আরও ১০ এবং তৃতীয়বার মরে যাওয়ায় পেল ৫০। তাঁর পরিবারের মোট প্রাপ্তি ৮০ লক্ষ টাকা। আমরা কেউ জানি না কতটা সততার সঙ্গে এইসব আক্রান্ত হওয়ার খবর জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণ নেয়া হবে। আমরা শুধু জানি, আমাদের সরকারি লোকজনের সততার লেভেলটা কেমন।

মন্ত্রী তো বলেছিলেন, করোনা মারাত্নক কিছু নয়, জাস্ট সর্দি জ্বরের মত। তাহলে, সামান্য সর্দি জ্বর হলেই যদি সরকারি লোকজন ১০ লাখ করে পায়, তাহলে ক্যান্সার এইডস হলে কত করে পাওয়া উচিৎ তাঁদের?

 

যেটা বলছিলাম শুরুতে, ডাক্তার মইনুদ্দিন মারা গেছেন আজ সপ্তাহ গড়িয়ে গেল। তিনি তো সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারই ছিলেন, করোনাতেই মারা গেছেন, এম্বুলেন্সও পাননি, আইসিইউও পাননি।

তো করোনায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মৃত্যু হওয়ায় এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের আওতায় তাঁর পরিবারের হাতে সবার আগে ৫০ লক্ষ টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে কি?

 

একটা রাষ্ট্র কী করে শুধু সরকারি লোকজনদের সুবিধা দিতে থাকতে পারে নিরন্তর?


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান