সম্মিলিতভাবে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে

Sun, Apr 19, 2020 9:08 PM

সম্মিলিতভাবে  এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু: বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর "কেন বিদেশিরা ঢাকা ছাড়লেন" নামকরণে একটি লেখা আমার দৃষ্টিতে এসেছে। আমি যতটুকু জানি করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিদেশীরা শুরু থেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। শুধু বিদেশীরাই নয় ইউরোপ আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যারা বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন তারাও এখন ফিরে আসছে। অনেকে এখনো ফিরে আসার অপেক্ষায় আটকে আছেন। ঢাকাস্থ সুইডিশ দুতাবাসের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন  সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী নিজস্ব খরচে সুইডেন ফিরে এসেছেন। এই দুঃসময়ে সকলেই তাদের আপনজনের কাছে ফিরতে চায়। সুযোগ আছে দেখে তারা সুযোগের সৎব্যবহার করছেন। এটাই  স্বাভাবিক।

শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বেও রয়েছে করোনা ভাইরাস চিকিৎসার ঘাটতি। এখানেও ডাকলে এম্বুলেন্স আসে না। বলা হয় ট্রেনে বাসে আসতে। কেউ মারা গেলেও অনেকে কাছে থাকতে পারে না। বিদেশে হাসপাতালগুলোতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত সুইডেনের মতোই অনেক দেশে সকল জনগণের জন্য কোনো টেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের সাথে জনসংখার দিক থেকে তুলনা করলে এত উন্নত দেশে থাকা সত্ত্বেও আমাদের লজ্জা হয়। অন্য দেশের কথা না জানলেও একজন সুইডেন প্রবাসী হিসেবে বলতে পারি এখানে আপাতত শুধুমাত্র যারা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস সেক্টরে দায়িত্বে নিয়োজিত একমাত্র তাদেরই প্রাথমিক অবস্থায় টেস্ট করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি সাধারণ মানুষের জন্য টেস্ট বাবস্থা চালু করলেও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।

এখানেও জনস্বাস্থ বিভাগ থেকে প্রতিদিনের সংবাদ ও পরামর্শকে অনেকে বলছে যতসব আজগুবি পরামর্শ বা সিদ্ধান্ত। এরা আমাদেরকে প্রতিদিনই বোকা বানাচ্ছে। এখন পর্যন্ত  বলছে সব কিছু ঠিকঠাক। লোকডাউন না করে চলাকে বলছে, আমরা কোন সমস্যা দেখছি না। মিডিয়ার সমালোচনাকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে। অথচ প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছেl আজ (শনিবার) পর্যন্ত ১৫১১ করোনা ভাইরাসের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। তবুও তারা কখনোই বলছে না যে দেশ ঝুঁকির মধ্যে আছে। সতের কোটি মানুষের জন্য যেখানে বাংলাদেশ সরকার পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের বাবস্থা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেখানে সুইডেনের মতো একটি উন্নত দেশে মাত্র এক কোটি দশ লক্ষ্য মানুষের জন্য ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে।

জানিনা কোন দেশের কূটনৈতিক তিনি। দেশটার কথা জানা থাকলে সে দেশের একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরা যেত। তার দেশে ফিরে গেলে যে তিনি চিকিৎসা পাবেন তার কি কোনো গেরান্টি আছে? সারা ইউরোপে এখন একই অবস্থা।শ্বাষ কষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা নেই।  সকলকেই ঘরে বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় ঠিক যেভাবে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। তারপর যখন হাসপাতালে নেওয়া হয় সেখান থেকে ফিরে আসা এক ভাগ্যের ব্যাপার। সুইডেনের মতো একটি দেশে বাস করে এমনি আতঙ্ক আছি আমরা।

কূটনৈতিক বেক্তি নাকি বলেছেন মারা গেলে তার ভবিষ্যৎ বংশধররা জানতে পারবে তিনি কিভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।তাহলে কি বাংলাদেশে মারা গেলে তিনি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন? তবে এটা ঠিক তিনি যেখানেই থাকুন কপালে যা আছে তাই হবে। সে বাংলাদেশ হউক আর তার দেশ হউক। বাংলাদেশে কূটনীতিকদের যেভাবে মাথায় তুলে রাখা হয় সেভাবে বিশ্বের আর কোথাও হয় কি না আমার জানা নেইl  আমি বলবো বাংলাদেশকে নিয়ে এই কূটনীতিকের এধরণের একটি অবাস্তব মন্তব্য অবশ্যই অপমান জনক, অবশ্যই কলঙ্কনীও, অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়।

সুতরাং একটি দেশের কূটনৈতিক বলেই যে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার কথা ঠিক হতে হবে এমন কোনো কথা নয়। মতিউর রহমান চৌধুরী ভাইয়ের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি, আসলেই কি তিনি এমন কথা বলেছেন? যদি বলেই থাকেন তাহলে তখন উত্তরে আপনি কি বলেছিলেন? এখন সমালোচনা করার সময় নয়। বাংলাদেশের সামনে আসতে পারে এক মহাবিপদ। আমাদের সকলকে এখন  নিজ নিজ অবস্থান থেকে একত্রিতভাবে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।

লেখক ইলেক্টেড মেম্বার মনোনয়ন বোর্ড  সুইডিশ লেফট পার্টি সেন্ট্রাল কমিটি


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান