ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জানাজার খবর কি ঢাকা আগে জেনেছিলো!

Sat, Apr 18, 2020 2:24 PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জানাজার খবর কি ঢাকা আগে জেনেছিলো!

শওগাত আলী সাগর: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি জানাজায় হাজার হাজার (অনেকেই বলছেন ৫০ হাজার) মানুষের শরিক হ্ওয়া নিয়ে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  ভেসে যাচ্ছে। প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করছেন। এগুলো পড়তে পড়তে আমি আমার বন্ধুদের মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করি।

আচ্ছা বলেন তো, হাজার হাজার ’টুপিওয়ালা  কি হঠাৎ করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে হাজির হয়েছে? হুজুর মারা যাওয়ার পর তার মৃত্যু সংবাদ, কোথায় জানাজা হবে-  এগুলো নিশ্চয় আলোচনা করে, পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে।  যে হুজুরের জানাজায় এতা মানুষের ঢল নামে- সেই হুজুর সম্পর্কে  নিশ্চয়ই প্রশাসনের ধারনা ছিলো! সেই হুজুরের মৃত্যুর পর কি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে- সেটি ভাববার মতো দুরদৃষ্টি কি প্রশাসনের ছিলো! কিংবা হুজুর মারা যাবার পর জানাজার প্রস্তুতি সম্পর্কিত তৎপরতা কি প্রশাসনের নজরে এসেছিলো? সেই সময়টায় প্রশাসন কি পদক্ষেপ নিয়েছিলো? তারা কি ঢাকায় এ ব্যাপারে কোনো বার্তা দিয়েছিলেন? কোনা পরামর্শ চেয়েছিলেন? ঢাকা কি তাদের বার্তায় সাড়া দিয়েছিলো?

আপনারা হয় তো বলবেন- করোনার মরণ কামড়ের কথা কি এই টুপিওয়ালারা‘ জানে না।সেই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু ওদের চেয়ে আপনারই তো বেশি জানা। বাংলাদেশের মানুষকে ঘরে নেয়া যাচ্ছে না, পশ্চিমা উন্নত দেশেও এই সমস্যা হয়েছে, হচ্ছে। পশ্চিমা দেশে সরকার কঠিন হয়েছে, শাস্তি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসা লোকদের ঘরে নিয়েছে। সেখানে রাষ্ট্র, সরকার তৎপর হয়েছে।

 বাংলাদেশের তো সরকার সারা দেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’  হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে। সেই ‘ঝুঁকি’ এড়াতে যে কারো যাতায়ত, যে কোনো ধরনের জনসমাগম বন্ধের আইনি ক্ষমতাও সরকারের হাতে আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলো না কেন? যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন- সেখানে সরকার বা রাষ্ট্র নিরব থাকে কিভাবে!

কেউ কেউ বলেন- ‘এই মানুষগুলো একেবারেই সচেতন না’। কথাতো ঠিকই। সচেতন হলে তো- এই মানুষগুলো হুজুরের জানাজায় হাজির হতো না। কিংবা এই কঠিন সময়ে এইভাবে জানাজার আয়োজন করা হতো না। চুরি করা খারাপ কাজ- এটা সবাই জানে। তবু দেশে পয়সা খরচ করে পুলিশ পুষতে হয়, পাহাড়ার ব্যবস্থা রাখতে হয়। প্রশাসন তথা সরকারকে্ও পয়সা খরচ করে পোষা হয়- এই সব দায়িত্ব পালনের জন্যই।

আর আমাদের হুজুররা কবে কোনকালে দুর্বিপাকের সময়, ঐতিহাসিক প্রয়োজনের সময় জনগেনর পক্ষে দাঁড়িয়েছে! তারা যে ‘মসজিদ বন্ধ’ ’মসজিদ বন্ধ’ বলে মিথ্যাচারের গুঞ্জন ছড়িয়ে দিচ্ছে- সেই তথ্য কি সরকারের জানা নেই। আগামী রোযায় যদি তারা মসজিদে মসজিদে তারাবি নামাজের ঘোষনা দেয়- সরকার কি তখনো চুপ করে থাকবে! যদি মাঠে ঈদের জামাতের ঘোষনা দেয়! তখন?  সারা বছর যে হুজুরদের সরকার তোষন করে , মানব সভ্যতার ঘোর বিপদের সময় সেই হুজুরদের মানুষের পক্ষে দাঁড় করানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ থাকবে না কেন!

আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, বলেন তো- কে কাকে সচেতন করে? নাগরিকদের সচেতন করার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র যারা চালান- তাদের চরিত্রের উপরই তো নির্ভর করে- জনগনের মানসিকতা কিভাবে গড়ে উঠবে। রাষ্ট্র যারা চালান- তারা আধুনিক, বিজ্ঞান মনস্ক হলে জনগনও  বিজ্ঞান মনস্ক, আধুনিক দৃস্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয়।  এই টুপিওয়ালাদের, গ্রামের সাধারন মানুষকে, শহরের সাধারন মানুষকে বিজ্ঞান মনস্ক করতে গত ১০/১৫ বছরে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেন তো! আপনার বিজ্ঞান চর্চ্যা, সংস্কৃতি, নাটক, সিনেমা সাহিত্য- কোথাও কি বিজ্ঞান মনস্কতার, বিজ্ঞা চর্চ্যার কিছু আছে? আজ হঠাৎ করে আপনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  টুপিওয়ালাদের কাছে বিজ্ঞান মনস্ক আচরণ আশা করেন কিভাবে! রাষ্ট্র আর সরকারের চরিত্র অনুসরণ করেই কিন্তু একটি দেশের জনগনের মানস গড়ে ওঠে।

আরেকটা প্রশ্ন করি। সারা দিন  ধরে  সামাজিক মাধ্যমে  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে এতো কথা হয়েছে, রাষ্ট্র কি বলেছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  কাজটা ঠিক হয়নি। কেউ কি এ জন্য কাউকে তিরষ্কার করেছে? সরকার কি এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কোথা্ও!

লেখক: শ্ওগাত আলী সাগর, নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান