কানাডার আদিবাসী অধিকার এবং পরিবেশ বিরোধী প্রকল্প

Wed, Mar 11, 2020 11:33 AM

কানাডার আদিবাসী অধিকার এবং পরিবেশ বিরোধী প্রকল্প

ফাতেমা বেগম : আদিবাসী নেতাদের সাথে আলোচনা শেষে মন্ত্রী মন্তব্য করলেন, “আর কখনো এমন হবে না।”। তিনি আশ্বাস দিলেন, আদিবাসী উত্তরাধিকারী নেতাদের বাদ দিয়ে আর কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। আমরা এই আশ্বাসবানীতে একটি স্বীকারোক্তি পেলাম যে আদিবাসীদের সংরক্ষিত ভূমি, এবং তন্মধ্যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী প্রধানদের আইনগত অধিকার  রয়েছে।

আদিবাসী উত্তরাধিকারী প্রধান কারা?

ইন্ডিয়ান এক্টের সুবাদে আদিবাসীদের নেতৃত্ব এখন দুইভাগে বিভক্ত। একটি হলো, উত্তরাধিকারী নেতৃত্ব, এবং আরেকটি হলো, ইন্ডিয়ান এক্টের আওতায় নির্বাচিত ব্যান্ড কাউন্সিল নেতৃত্ব। উত্তরাধিকারী প্রধানগন বরাবর আদিবাসিদের নেতৃত্বে ছিলেন। আইনী সিদ্ধান্তে এখনও তাদের সেই গুরুত্ব বজায় রয়েছে।

১৯৯৭ সালে দেলগামুকুক মামলায় ওয়েট’সুয়েট'এন উত্তরাধিকারী নেতাবৃন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে আদিবাসী জাতির একটি আইন ব্যবস্থা রয়েছে যা কানাডার ইন্ডিয়ান এক্টের অধীনে নির্বাচিত ব্যান্ড কাউন্সিলগুলির পুর্বেই প্রতিষ্ঠিত ও একটি প্রচলিত আইন। সেই আইন অনুসারে ওয়েট’সুয়েট’এন এর  ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য উত্তরাধিকারী নেতাবৃন্দ তাদের সম্প্রদায়ের কাছে দায়বদ্ধ।

আদিবাসী উত্তরাধিকারী প্রধানদের আইনগত অধিকার কী?

১৬১৩ সালে ডাচ বানিজ্যদল এবং তাদের বসতি স্থাপনকারী ও আদিবাসীদের মধ্যে  ‘দ্য টু রো ওয়াম্পাম’ চুক্তি হয় এই চুক্তি অনুযায়ীঃ

[আমাদের চুক্তিগুলি] দু'টি পথ বা দুটি জাহাজের প্রতীক হিসাবে একই নদী দিয়ে এক সাথে ভ্রমণ করে। আমরা প্রত্যেকে পাশাপাশি একসাথে নদী ভ্রমণ করব, কিন্তু আমাদের নিজস্ব নৌকায় করে যাব। আমরা কেউই বাধ্যতামূলক আইন তৈরি করব না বা অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। আমরা কেউই অন্যের জাহাজ চালানোর চেষ্টা করব না।”(A short introduction to the Two Row Wampum, Tom Keefer Mar 10, 2014)

পরবর্তীতে, আদিবাসিদের সংরক্ষিত এলাকায় ১৮৭৬ সালে বিভিন্ন চলমাআইনগুলিকে সমন্বয় করে ইন্ডিয়ান এক্ট তৈরী হয়। বিভিন্ন সময় এই এক্ট সংশোধিত হয়। যেমন, ১৯৯৭ সালে উত্তর-পশ্চিম ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ৫৮,০০০ বর্গকিলোমিটার জমি ও পানির উপর আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি যুগান্তকারী দেলগামুকূ মামলায় রায় হয় যে আদিবাসীদের মৌখিক সাক্ষ্য প্রমান অন্যান্য পদ্ধতির  প্রমানের মতো বৈধ আদিবাসী মালিকানা অধিকা্রে কেবল জমিই নয়, জমি থেকে সম্পদ আহরণের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেলগামুকূর মামলার সিদ্ধান্তে, প্রধান বিচারপতি আন্তোনিও ল্যামার উল্লেখ করেছিলেন যে আদিবাসী উপাধি জমির একচেটিয়া ব্যবহার এবং দখলের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এই সিদ্ধান্তে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে কৃষিক্ষেত্র, বনজ, খনন এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ার অভ্যন্তরের সাধারণ অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য আদিবাসী অধিকারগুলি ন্যায়সঙ্গতভাবে লঙ্ঘিত হতে পারে। লেমার বলেন, তবে নির্ধারিত বিষয়টি কেস ভিত্তিতে পরীক্ষা করা উচিত। এবং ২০১৪ সালের আরেকটি মামলার রায়(Tsilhqot'in Nation v British Columbia 2014 SCC 44) অনুসারে, লঙ্ঘন কেবল তখনই ঘটতে পারে যখন পর্যাপ্ত পুর্ব-পরামর্শ হয় এবং জনসাধারণের পক্ষে সুবিধাটি আদিবাসী স্বার্থের যে কোনও প্রতিকূল প্রভাবের সমানুপাতিক হয়। এই মামলাটি ব্যাপকভাবে ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের একটি প্রভাবক উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই রায়ে,  চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন জমির মালিকানা অধিকার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আদিবাসী উপাধির অস্তিত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

বর্তমান সমস্যা কী?

প্রথমতঃ কানাডা থেকে বিশ্ববাজারে এলএনজি(লিক্যুইড ন্যাচারাল গ্যাস)রপ্তানীকল্পে বৃটিশ কলম্বিয়ার ডওসন ক্রীক থেকে কিটিমেট এলাকা(ওয়েট’সুয়েট’এন এলাকা) পর্যন্ত কোস্টাল গ্যাসলিংক পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় ৬৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্র্যাকিং পাইপলাইন তৈরীর চুড়ান্ত সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারাদেশে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। অভিযোগ হলো, এই পাইপলাইন তৈরীর মাধ্যমে সরকার আদিবাসী  জনগণের অধিকার, নুক নুয়াটেন (ওয়েটসুইট'ইন নের আইন), এবং সম্মিলিত ভূমি মালিকানার ব্যাপারে  জাতিসংঘের আদিবাসীদের অধিকারের ঘোষণাপত্র (ইউএনডিআরআইপি)লঙ্ঘন করে ইউনিস্টিওটেন অঞ্চলটিতে রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত নির্মাণ কোম্পানি কোস্টাল গ্যাসলিংক প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসনকে সমর্থন করে চলেছে পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভূমি ক্ষকদের গ্রেপ্তার করা য়েছে বর্তমানে আলোচনার সাথে সাথে প্রতিবাদ এবং সংহতি আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

কানাডার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বেসরকারী বিনিয়োগ ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োজিত এই প্রকল্পে কোস্টাল গ্যাসলিংক কতৃক এই পাইপলাইন নির্মান অংশে ৬.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। আদিবাসীদের প্রস্তাব ছিল এই পাইপলাইনটি তাদের এলাকার বনের মাঝখান দিয়ে না নিয়ে বনের বাইরে দুইপাশ ঘিরে নেয়ার জন্য। খরচ বেশী অর্থাৎ মুনাফা কম হওয়ার যুক্তিতে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই প্রকল্পে যে পাঁচটি বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহন রয়েছে,তারা হলো ১। রয়্যাল ডাচ শেল ২।মিটসুবিশি কর্পোরেশন৩। দ্য মালয়েশিয়ান ওনড পেট্রনস ৪। পেট্রোচায়না কোঃ ৫। কোরিয়ান গ্যাস কর্পোরেশন।  

চলমান আন্দোলনে প্রধান অভিযোগ হলো, এই পাইপলাই তৈরীতে ওয়েট’সুয়েট’এনের উত্তরাধিকারী প্রধানদের সাথে ২০১৪ সালের মামলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন “পূর্ব-পরামর্শ” হয়নি

ওয়েটসুয়েট'ইনের নির্বাচিত প্রধানগণ সহ ২০ জন ফার্স্ট নেশনস প্রতিনিধিরা এই প্রকল্পের জন্য কোস্টাল গ্যাসলিংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তবে ওয়েটসুয়েটএন এর উত্তরাধিকারী নেতাবৃন্দ তাদের অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত কোস্টাল গ্যাসলিংক এর পাইপলাইন প্রকল্পে সম্মতি জানায়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোস্টাল গ্যাসলিংক পাইপলাইন অনুমোদনের আগে আদালতের মাধ্যমে ‘ন্যায়সঙ্গত অধিকার লঙ্ঘন’ অনুমোদিত হয়নি।

চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও যৌক্তিকতা বুঝতে হলে কানাডায় আদিবাসীদের সাথে সরকারের ঐতিহাসিক ও বর্তমান সম্পর্কে আস্থার জায়গাটি জানতে হবে

কানাডার আদিবাসী সম্প্রদায় মূল তিনভাগে বিভক্তঃ ফার্স্ট নেশন, ইনুইট এবং মেটিস। প্রতি দলভুক্ত আদিবাসীদের নিজস্ব  ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাস রয়েছে। ১৮৯৭ সালে ধর্মযাজকদের পরিচালনায় আবাসিক বিদ্যালয়ে ১৫০,০০০ জনেরও বেশী আদিবাসী সন্তানদেরকে নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলিয়ে সভ্য মানুষ বানানো তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাদের জন্য ইংরেজীতে কথা বলা বাধ্যতামূলক ছিল। অন্যথায়, শাস্তি পেতে হতো। স্কুলে থাকাকালীন সময় মানবেতর জীবনযাপনের কারণে ৬০০০ জনেরও বেশী শিশু মৃত্যু বরন করে। অনেক শিশু পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়, এবং পিতা মাতার সাথে সাক্ষাৎকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মাত্র ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ আবাসিক স্কুলটি বন্ধ হয়। প্রায় ১২০ বছর ধরে সরকারী-পৃষ্ঠপোষকতায় গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলির সাথে সংযুক্ত অনেক আদি শিশুকে পাদ্রি এবং অন্যান্য কর্মচারীরা শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছিল।তারপর, ষাটের দশকে ‘সিক্সটি’স স্কুপ’ এর অধীনে প্রাদেশিক শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রণীত একাধিক নীতিমালার মাধ্যমে হাজার হাজার আদিবাসী বাচ্চাকে সাদা পরিবারের সাথে পালিত রেখেছিল। প্রয়োজনে, শিশু দত্তকের ব্যাপারটি বিজ্ঞাপিত হতো।  তাদেরকে নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয় সম্পর্কে লজ্জিত করার চেষ্টা করা হয়। শিশু নির্যাতনের এই পারিবারিক অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে কাজ করছে। তাদের ভাষায়, প্রথমে তারা জমি থেকে বাচ্চাদের নিয়েছিল, এখন তারা শিশুদের কাছ থেকে জমি নিয়েছে।

গত তিন দশকে  কানাডায় ৪০০০ জনের অধিক  আদিবাসী নারী ও মেয়ে নিখোঁজ ও খুনের কারণ এখনও অজ্ঞাত (Canada’s MMIWG inquiry)। তাই ভবিষ্যতে এই নিখোঁজ ও হত্যা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থেকে আদিবাসীদের মধ্যে এক আতংক এবং প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা কাজ করছেজাতিসংঘের সংজ্ঞানুযায়ী, আদিবাসী মহিলা ও কন্যা নিখোঁজ ও খুন করা নিয়ে কানাডার  আচরণ গণহত্যার সমান

বর্তমানে শিশু আদিবাসীদের শতকরা ৪৭% দারিদ্র সীমায় অবস্থান করছে। এই ৪৭% শিশুর মধ্যে  ৫৩% শিশু রিজার্ভে আছে এবং ৪১% শিশু রিজার্ভের বাইরে আছে। জাতীয় হারের চাইতে তাদের শিশু দারিদ্র্য আড়াইগুন বেশী এবং সাদা শিশুদের চাইতে চারগুন বেশী। (গ্লোব এন্ড মেইল, ২০১৯ ,জুলাই ০৯) তরুন কল্যান বাজেটে বরাবর বৈষম্য থাকছে। তরুনদের আত্মহত্যার  হার অ-আদিবাসীদের তুলনায় তিন(৩)গুন বেশী। সম্প্রদায় হিসাবে আত্মহত্যার হিসাবে, ফার্স্ট নেশনে তিন(৩) গুন বেশী, ইনুইটে নয়(৯) গুন বেশী,এবং মেটিস সম্প্রদায়ে দুই(২) গুন বেশী (সূত্রঃ স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডা রিপোর্ট)। ইনুইটের এই আত্মহত্যার হার বিশ্বের সর্বোচ্চ রেকর্ড হারের পর্যায়ে আছে। জেলখানায় আদিবাসী নারী পুরুষের সংখ্যা অ-আদিবাসীদের সংখ্যার চাইতে বেশী। বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য একটি দীর্ঘ আলোচিত বিষয়

প্রকৃতিঘন এলাকায় তাদের রিজার্ভ থাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং শিল্প দুষনের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, গ্রাসি ন্যারোতে প্রায় ৯০ শতাংশ আদিবাসী বাসিন্দা পারদ বিষে ভুগছেন। তাদের খাদ্য এবং পানির উপর নির্ভরশীল ইংলিশ ওয়াবিগূন নামে এই নদীতে ড্রাইডেন কেমিক্যাল কোম্পানি ১৯৬২-১৯৭০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ টন পারদ ফেলেছিল। সেই দূষন প্রক্রিয়ায় এখনও অব্যাহত আছে। পারদের উচ্চ মাত্রার সংস্পর্শে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের পরিবর্তনজনিত দুরারোগ্য ব্যধিসমূহ আক্রান্ত হয়,এবং মৃত্যু ঘটে

সংক্ষেপে, রাষ্ট্রের সাথে এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের বন্ধনে আদিবাসিরা এক অনাস্থা এবং আতংকের মধ্যে বসবাস করে।

দ্বিতীয়তঃ এই পাইপলাইন পরিবেশ বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করবে। আইনী পদক্ষেপটি যুক্তি দেয় যে বৃটিশ কলাম্বিয়ার পরিবেশগত মূল্যায়ন অফিস কোস্টাল গ্যাস লিংক প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোস্টাল গ্যাসলিংক কোম্পানী ইতিমধ্যে গত বছর ওয়েটসউইয়েট অঞ্চলগুলিতে বুলডোজ করেছে, প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলি ধ্বংস করেছে এবং তাদের জমি দখল করেছে। যখন বিজ্ঞানীরা আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন বিপর্যয়ের সতর্কতা দিচ্ছেন তখন এই পাইপলাইন প্রকল্প জীবাশ্ম জ্বালানীর উৎপাদন দ্রুত না কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে ক্ষতিকর পরিবেশ ঝুঁকি যা রাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তনের দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতিকে  ভঙ্গ করছে।  

ফ্র্যাকিং পদ্ধতিতে নির্মিতব্য এই পাইপলাইনে মাটির গভীর পর্যন্ত সমস্ত ধরণের নোংরা  রাসায়নিকগুলি ইনজেকশন দেয়া হবে এবং তাতে দূষণ অনিবার্য। ফ্র্যাকিং পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং বিতর্কিত একটি পরিবেশগত ও রাজনৈতিক সমস্যা। পানি,বালু এবং কিছু রাসায়নিক দিয়ে ফ্র্যাকিং এর মিশ্রন তৈরী হয়। গড়ে ৮ মিলিয়ন লিটার পানি(দৈনিক ৬৫০০০ মানুষের ব্যবহার্য পানি),কয়েক হাজার টন বালু এবং ৭০০ ধরণের প্রায় ২০০,০০০ লিটার রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে পানির সরবরাহে অপরিশোধযোগ্য দুষন ঘটে। ২৫ গুন বেশী মিথান ও কার্বনডাইওক্সাইড নির্গমনের মাধ্যমে বায়ু দূষণ ঘটে। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলিতে অবদান রাখতে পারে যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ ঘটায় এবং ভূমিকম্পকে উদ্বুদ্ধ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  ফ্র্যাকিং পদ্ধতির কুফল ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান।

ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০% কমানো এবং  ২০৫০ সালের মধ্যে এই কার্বন নির্গমন শূন্য পর্যায়ে আনাপ্রতিজ্ঞা ছিল। কানাডিয়ান বর্তমান সরকার জি-৭ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তিতে ২০২৫ সালের মধ্যে ফসিল ফুয়েল কোম্পানীগুলিকে ভর্তুকি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ওয়েট’সুয়েট’এন এ এলএনজি পাইপলাইন নির্মান  এবং বিনিয়োগকারী বহুজাতিক কোম্পানীগুলিকে ভর্তুকি দিয়ে কানাডা কি সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। ইতিমধ্যেই, সে পিছিয়ে আছে।

 

তৃতীয়তঃ অস্থায়ী পাইপলাইন প্রকল্প কর্মীদের দ্বারা সৃষ্ট লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া এবং খুন হওয়া ৪০০০ এর অধিক আদিবাসী মহিলা ও মেয়েদের তদন্তের ২০১২ সালের জুনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে দেখা গেছে যে আদিবাসী মহিলা, মেয়েশিশু এবং  টু-স্পিরিট লিঙ্গের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সংক্রমণের সাথে সম্পদ আহরণের প্রকল্পগুলি জড়িত।

বিশ্বে বহু-জাতিক বৈচিত্র্যের একটি সুপরিচিত নাম,কানাডা। আদিবাসী হলো তারা যাদের কানাডায় প্রথম বসবাস ছিল। তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে কানাডা কি বহু-জাতিক বৈচিত্র্যের সংস্কৃতিকে আঘাত করছে না? পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রকল্পে অনুমোদন দিয়ে কানাডা কি সকল নাগরিক এবং বিশ্ববাসীর কাছে দেয় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে না?

যে কোন তথ্যসূত্র যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করুনঃ ফাতেমা বেগম, লেখক, মানবাধিকার কর্মী, fatemaorama@gmail.com647-704-7334

 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান