ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে ১ লাখ টাকা পাবেন!

Sun, Feb 23, 2020 11:29 PM

ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে ১ লাখ টাকা পাবেন!

শ্ওগাত আলী সাগর :  "ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে ১ লাখ টাকা পাবেন, ব্যাংকে আপনার যতো টাকাই থাক’- এই বক্তব্যটি নিয়ে  গত কয়েকদিন ধরেই বেশ আলোচনা হচ্ছে। সাধারন নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের আতংকও তৈরি করেছে এই বক্তব্যটা। পত্রিকায় রিপোর্ট হচ্ছে, টিভি চ্যানেলে টক শো হচ্ছে- নানা জন নানা মত দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংকার, অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের কেউ বিষয়টা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন- এমন তথ্য পা্ওয়া যায় নি।ফলে বক্তব্যটা নিয়ে এক ধরনের ধোয়াশা তৈরি হয়েছে।

 ২. কানাডার ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ধরনের একটি ব্যবস্থা আছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তার আমানতকারীদের জন্য ১০০,০০০ ডলার পরিশোধের গ্যারান্টি আছে। এই গ্যারান্টি দিচ্ছে  কানাডা ডিপোজিট ইন্সুরেন্স কর্পারেশন নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান। যে কোনো ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্পোরেশনের সদস্য হতে হয়। এই ব্যবস্থাটা আসলে ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা।  প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্টহারে প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হয়- গ্রাহকদের এই গ্যারান্টির জন্য।

৩.কানাডার পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই ১ লাখ ডলারের গ্যারান্টি অনেক কিছু।  ব্যাংকে এক লাখ ডলার ফেলে রাখে খুব কম মানুষই। আর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে, দেউলিয়া হয়ে যাবে- এই ধরনের ভাবনাও সাধারনভাবে কোনো গ্রাহকের মনে উঁকি দেয় না। কঠোর সরকারি নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির মধ্যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়। এই মনিটরিংটাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে গ্রাহকদের মনে একধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।

৪. বাংলাদেশের অবস্থাটা অবশ্য ভিন্ন। খেলাপি ঋণের পরিমান, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লুটপাট, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন, দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, অক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক- এসবই  যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে গ্রাহকদের আস্থাহীন হ্ওযার জন্য যথেষ্ট। বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষই ব্যাংককেই তাদের আশ্রয়স্থল মনে করে। ফলে ‘ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে ১ লাখ টাকাই পাবেন’- এই প্রচারনাটা তাদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর।

৫. এই এক লাখ টাকার ব্যাপারটা আসলে আমানতের বিপরীতে বীমা গ্যারান্টি। কানাডায়ই যদি ১ লাখ ডলার বীমা গ্যারান্টি হয়, বাংলাদেশের এই পরিমানটা আরো অনেক বেশি হ্ওয়া উচিৎ।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  এই বীমা গ্যারান্টির পরিমান ২৫০,০০০ ডলার। কিানাডা- আমেরিকায় প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানই কঠোর নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের আর্থিকখাতে শৃংখলাটাই নেই। সেখানে এই বীমা গ্যারান্টির পরিমান আরো বেশি হ্ওয়াটা জরুরী।

৬. গ্রাহকের যতোট টাকাই জমা থাক, ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহকের পা্ওনা ১ লাখ টাকাই।’- এই তথ্য কি সর্বাংশে সত্য! কানাডার হিসাব যদি ধরি, তা হলে এই তথ্যটা একটু ভিন্ন। যদি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধই হয়ে যায় তা হলে সেটি ‘লিকুইডেশনের’ মাধ্যমে সবার আগে আমানতকারীদের পা্ওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্যোক্তাদের হিসাবটা হবে সবার পরে, গ্রাহকদের পা্ওনা মিটিয়ে যদি কিছু থাকে তখন। বাংলাদেশের কি এই ধরনের কিংবা অন্য কোনো প্রতিরক্ষণের ব্যবস্থা আছে? সেটা ব্যাংকগুলো খোলামেলা পরিষ্কার করলে ভালো হয়।

৭. ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে- আমানতকারীর কি হবে- এ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়মাবলী কি, সরকারের আইন কি- এগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হ্ওয়া দরকার। বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলেই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অক্ষমতা প্রকট বলেই এই  বিষয়গুলো আলোচনায় আনা দরকার। আমানতকারী যে ব্যাংকে টাকা রাখছেন, তার সাথে ব্যাংকের শর্তাবলী কি, এই আমানতের প্রতিরক্ষণের জন্য ব্যাংক কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে- এগুলো তো জানা দরকার। এই জানানোর কাজটা ব্যাংক নিজেরা নিলেই ভালো হয়।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান