যাদের মেধা তারাই সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পাবে

Mon, Jul 16, 2018 11:50 AM

যাদের মেধা তারাই সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পাবে

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহলম: ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস, ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস, পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস থেকে এখন হয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসl সরকার ব্রিটিশ, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের অনুকরণে বি সি এস পরীক্ষা চালু করেছেl প্রতিবার এই বি সি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য দেশের মেধা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে থাকেl পরবর্তীতে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তাদের মনোনয়ন দেয়াl হয়l তবে এক্ষেত্রে উত্তীর্ন বেক্তিদের তালিকা নির্বারণে সরকার বিভিন্ন কোটা প্রথা চালু করেছেl এধরণের কোটা প্রথার আওতায় প্রতিবন্ধী, জেলা, ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের পৃথকভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়l

 

স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নুতন করে কোটা প্রথা সংযোজন করেনl পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই কোটার সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরও সুযোগ করে দেয়l পরে নাতি নাতনিদেরকেও এর আওতায় আনা হয়। ফলে সরকারি চাকরিতে যে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তাদের জন্য সংরক্ষিত আছে ৩০ শতাংশ। এই ত্রিশ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্যই মূলত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেl শিক্ষার্থীদের দাবি কোটার পরিমাণ আরও কমিয়ে এনে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা। তারা কখনই মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের কোটা বাতিল করার কথা বলেনিl এই সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ভারক্রান্ত কণ্ঠে সংসদে দাঁড়িয়ে পুরো কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেনl

 

শিক্ষার্থীরা যখন কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে ঠিক এইসময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো কিছু না জেনে শুনে হটাৎ করে জাতীয় সংসদে পুরো কোটা প্রথাকে বাতিলের ঘোষণা কেন দিলেন?   প্রধানমন্ত্রীর এধরণের ঘোষণায় তৎক্ষণাৎ কোটা সংস্কার আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। এবেপারে সিদ্ধান্ত নিতে পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ধীরে ধীরে এক জায়গায় এসে সবকিছু থমকে দাঁড়ায়l এখন সরকার বলছে ঠিক উল্টো কথাl সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে আদালতের আদেশ রয়েছে। সুতরাং তা বাতিল করা যাবে নাl  প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি তার বক্তব্যে বলেন, এই কোটা বাতিল হলে তিনি আদালত অবমাননায় পড়বেন।

 

এদিকে বিএনপি নেতা আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেছেন, আদালতে এই ধরনের কোনো রায় আছে বলে মনে হয় না। এখন প্রশ্ন হলো আদালতের রায়ে কি লেখা আছে? মুক্তিযুদ্ধাদের কোটা, তাদের ছেলেমেদের কোটা, তাদের নাতি নাতনিদের কোটা না মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের কথা? তবুও বলবো বিষয়টি নিয়ে  আদালতের কোনো রায়ও যদি থাকে তাহলে কি বিষয়টি নিয়ে সরকার আপিল করতে পারে না? কোটা প্রথা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার কথা বলে সরকার কেন এখন পিছ টান দিচ্ছে ? সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কি তাহলে এখন আর বাস্তবায়িত হবে না? আদালতের কথা তুলে ধরে সরকারের এভাবে কোটা প্রথাকে চালু রাখা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

 

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি সরকার বিরোধী আন্দোলন তৈরিতে দীর্ঘদিন কোনো ইস্যু বানাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন এই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে রাজপথ গরম করার সুযোগ তৈরি করার পায়তারা করছে। এই সুযোগ হেলায় তারা হারাতে চায় নাl কোটা নিয়ে রাজনীতির এই চরম পরিস্থিতিকে পুঁজি করে এখন তারা  সামনে  অগ্রসর  হতে  চায়l  এবেপারে  বিএনপি নেতা তারেক  রহমানের টেলিফোনে  নির্দেশ  দেওয়ার  বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়l

 

আসলে আদালতের রায়ে কি লেখা আছে? বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্যl অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে যদি আদালতের কোনো রায়ও থাকে তাহলে  কি  বর্তমান  পরিস্থিতিতে  সরকার  এই  রায়ের  বিরুদ্ধে  আপিল করতে পারে না? সংসদে রাখা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কি তাহলে এখন উল্টো পথে চলবে? সেদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদে কেউ কোনো আপত্তি তুলেননিl ফলে আইন অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদ গ্রহণ করেছে বলেই ধরা হবেl সুতরাং কোটা প্রথা বাতিলের কাজ বাস্তবায়িত করা এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বl এখন থেকে সরে আসা মানেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে অমান্য করাl বিষয়টি কি সরকার ভেবে দেখেছে?

 

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য নুতন কোটা প্রথম চালু করেছিলেন যা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যl পরবর্তীতে ৯৬ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধাদের সন্তানদের এই সুযোগ করে দিয়েছিলেনl জনগণ তাও মেনে নিয়েছেl এখন বলা হচ্ছে নাতি নাতনিদের সহ মুক্তিযুদ্ধাদের পরিবারের কথাl কথা হলো ব্রিটিশের রেখে যাওয়া এই কোটা প্রথা আর কতদিন চলবে? কেনই বা চলবে? আসে পাশের দেশে আছে বলেই যে বাংলাদেশে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নয়l ইউরোপ সহ  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এধরণের কোনো নিয়ম নেইl এসকল দেশে মেধা ও  অভিজ্ঞতার  উপর নির্ভর করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকুরী দেওয়া হয়l তাহলে বাংলাদেশে তার বেতিক্ক্রম হবে কেন?

 

সব কথার শেষ কথা হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পাবে তারাই যাদের মেধা রয়েছেl কারণ দেশ পরিচালনার এক বিরাট দায়িত্ব তাদের উপরl তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের পৃথকভাবে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারেl সময় থাকতে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসা উচিত বলে অনেকে মনে করছেনl

 

লেখক সুইডেনে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান