খালেদার সৌদি সম্পদের তথ্য সংগ্রহে সরকারি পদক্ষেপ চাই

Fri, Dec 8, 2017 12:24 AM

খালেদার সৌদি সম্পদের তথ্য সংগ্রহে সরকারি পদক্ষেপ চাই

শওগাত আলী সাগর: সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ‘দুর্নীতি’র খবর কেনো ঢাকার মিডিয়ায় নেই তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর উষ্মা প্রকাশটা যৌক্তিক। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দেশের তাবৎ মিডিয়ায় সেটি প্রধান খবর হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর  উষ্মার খবর পরিবেশন করতে গিয়ে বিডিনিউজ ২৪.কম নিজেদের কিছু বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করেছে।  বিডিনিউজ লিখেছে, “প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিত দ্য ডেইলি অবজারভারে এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল গত ১ ডিসেম্বর। প্রতিবেদনে সংবাদের উৎস বলা হয়েছিল, আরবভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোকে উদ্ধৃত করে ‘গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (জিআইএন)’ এবং ‘কানাডার টিভি চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল’ এই খবর দিয়েছে।”

বিডিনিউজ আরো লিখেছে, ইন্টারনেট ঘেঁটে ‘দ্য নাশনাল’ নামে কানাডার কোনো টিভি চ্যানেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কানাডার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে দ্য নাশনাল নামে একটি নিউজ প্রোগ্রামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে সেখানে সার্চ দিয়ে খালেদা সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আর গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক নামে কোনো গণমাধ্যম ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

বিডিনিউজের এই বক্তব্য থেকে ঢাকার প্রধান প্রধান মিডিয়াগুলোতে সৌদি আরবে খালেদা পরিবারের সম্পত্তির বিষয়ে নিরব থাকার কারন আঁচ করা যায়। যারা এই সংবাদের নির্ভরযোগ্য সোর্স এর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন, তারাই এই সংবাদটি পরিবেশন থেকে বিরত থেকেছেন। অন্তত বিডিনিউজের ব্যাখ্যা তাই বলে।

আমাদের মনে হয়, এই ক্ষেত্রে সরকার নিজেও মিডিয়াকে সহায়তা করতে পারে। কোনো কোনো মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুসারে যেহেতু সৌদি সরকারের তদন্তে খালেদা পরিবারের দুর্নীতি তথা সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে, সৌদি সরকার এই ব্যাপারে পদক্ষেপও নিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে সেই সব তথ্যাদি সংগ্রহ করতে পারে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ হাই কমিশন আছে, তারা এই ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারতো। এখনো তারা উদ্যোগী হতে পারে।

বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক, কাজেই বাংলাদেশ সরকার কিংবা সরকারের পক্ষে দূতাবাস এই ব্যাপারে সৌদি সরকারের কাছে তথ্য চাইতে পারে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিশ্বের অন্য দেশে কোনো অপকর্ম করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের থাকে।কানাডার আদালতে যখন পদ্মাসেতু মামলা বিচরাধীন তখনো কিন্তু বাংলাদেশ কানাডা সরকারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে। খালেদা জিয়ার সম্পদের ব্যাপারেও সরকার সেটি করতে পারেন বলে আমরা মনি করি।শুধু তাই নয়, সৌদি সরকারকে তদন্তের ব্যাপারেও বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে।

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদের ব্যাপারে সরকার তদন্ত করছে। গত তিন মাসে তদন্ত- অনুসন্ধানের কিছুটা হলেও অগ্রগতি হওয়ার কথা। তদন্তে পাওয়া তথ্যাদিও সরকারিভাবে মিডিয়ায় প্রকাশের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উষ্মার সাথে সম্পূর্ণ একমত। সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের সম্পদ এবং দুর্নীতি নিয়ে যে সব কথাবার্তা হচ্ছে- তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যাদি জনসম্মুখে প্রকাশ হওয়া উচিত। ঘটনা সত্য হলে বেগম খালেদা জিয়াকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।

আমরা চাইবো, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় অবিলম্বে এই ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে  খালেদা জিয়ার সম্পদের ব্যাপারে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবে।

লেখক: শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, ‘নতুনদেশ’।


External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান