তথ্য সুরক্ষা: সাধু সাবধান!

Sat, Nov 4, 2017 8:40 PM

তথ্য সুরক্ষা: সাধু সাবধান!

শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ : ভার্চুয়াল জগতে নিজের অজান্তেই অনেক তথ্য চলে যায় বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহৃত হয় পণ্য হিসেবে। এ ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিকীকরণ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। আবার তথ্যের অপব্যবহারও হয়। এ জন্য প্রয়োজন অবাধে বিভিন্ন জায়গায় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের যুগে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। ইদানীং এমনটি বলা হয় যে, কোনো কিছুই সিক্রেট নয়। কারণ অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সবার তথ্যই কারও না কারও কাছে সংরক্ষিত। যেমন ই-মেইল হলে ইয়াহু, জিমেইল, হটমেইল বা এ জাতীয় কোনো সার্ভারে সংরক্ষিত আছে সব গোপনীয় মেইল। ফেসবুকের সব তথ্য পাওয়া যাবে ফেসবুক সার্ভারে। আবার টেলিকমিউনিকেশন হলে গ্রামীণফোন, সিটিসেল, রবি, এয়ারটেল, টেলিটকের সার্ভারে পাওয়া যাবে সব এসএমএস, কনভারসেশনের অডিও-ভিডিও।

ভয়েজ বা ভিডিও চ্যাট হলে স্কাইপ বা সে রকম কোনো সংশ্লিষ্ট সাইটে জমা হয় সব ডাটা। অনুরোধ সাপেক্ষে এসব তথ্য প্রাপ্তিও সম্ভব। তবে অনেকেরই অজানা যে, এ তথ্য শুধু আপনি না চাইলেও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও দেখতে বা পড়তে পারে। আর সংশ্লিষ্ট সার্ভারগুলোর চাকরিজীবীরা তো অবশ্যই। কাজেই সাধু সাবধান!


আন্তর্জাতিক প্রাইভেসি দিবস২০১২ উদযাপনকালে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নতুন আইন ও নীতিমালা তৈরির আহবান জানিয়েছিলো বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংগঠন ভয়েসতথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার আগে কোন তথ্যটি কেন, কী উদ্দ্যেশে সংগ্রহ করা হচ্ছে তা অবশ্যই শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং স্বাভাবিক সময়ে বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া, ব্যক্তিগত তথ্য অবশ্যই ব্যক্তির সম্মতিতে সংগ্রহ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ফোন কোম্পানি ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে, তারা যাতে সংগঠনের গোপনীয়তার নীতি মেনে চলে সে বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভয়েস-এর পক্ষ থেকে ডাটা সংরক্ষণ নীতিমালা তৈরি, স্বাধীন প্রাইভেসি কমিশন গঠন ও ব্যক্তির তথ্য সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করার দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রথম ডাটা প্রাইভেসি দিবস পালিত হয়।

তবে এসব তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়ার আগে নিজেকেও সচেতন থাকতে হবে। নিজের ই-মেইল বা অন্য সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড যথেষ্ট কঠিন হওয়া আবশ্যক। কারণ পাসওয়ার্ড যে কোনো সময় হ্যাক হতে পারে। নিজের অজান্তেই কেউ নিয়ে নেবে পাসওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ। ব্যস, শেষ সব গোপনীয়তা। সেজন্য পাসওয়ার্ডকে মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করতে হয়। কারণ হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড হ্যাক করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়। তাই পাসওয়ার্ড যথেষ্ট জটিল কিন্তু নিজে মনে রাখার জন্য সহজ হওয়া উচিত।

ফেসবুকেও বহু প্রতারণার জাল ফেলা আছে। আপনাকে ক্লিক করতে প্রলোভন দেখানো হবে। অতঃপর ক্লিক করলেই সব গেল। এমন হাজারো পথ রয়েছে। কাজেই সাবধান।

তথ্য সুরক্ষার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন রয়েছে। আমাদের দেশেও আছে। তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে হয়। আইনের প্রয়োগের চেয়েও অপরাধ সংঘটনের প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করা উচিত। তাই সাইবার পুলিশ নিয়োগ দেয়া দরকার। তবে তথ্য সুরক্ষার নামে তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা দেয়া যাবে না। কোনো দল বা সরকারের বিপক্ষে গেলেই টিভি,পত্রিকা বন্ধ করে দিলে তথ্যের সুরক্ষার চেয়ে তথ্যপ্রাপ্তির উৎসমূলকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়।

একটি জাতির ভিত্তি কেমন, জাতি হিসেবে তার পরিসর কত, পারিপার্শ্বিক অন্যান্য অবস্থা সাপেক্ষে তার গৌরবের জায়গা কতটুকু এসবই নির্ভর করে সেই জাতি তথ্য সৃষ্টিতে কতটুকু সৃষ্টিশীল এবং তথ্যপ্রবাহে কতটুকু অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। একই সঙ্গে তথ্য সুরক্ষার মাধ্যমে সব কৃষ্টি ও সৃষ্টিকে লালন করতে হবে অনন্তকাল। কারণ তথ্য সুরক্ষা মানেই শুধু তথ্য চুরি রোধ নয়। তথ্যকে যুগ যুগ ধরে রাখাও তথ্য সুরক্ষার একটি বিষয়। এ দায়িত্ব সবার পাশাপাশি সরকারেরই বেশি।


শিক্ষা, চিকিৎসা, অন্ন, বস্ত্র ও আইনের সেবা পাওয়ার অধিকার যেমন রাষ্ট্রের কাছে আমাদের রয়েছে,তেমনি আমাদের তথ্য সুরক্ষার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তথ্য সুরক্ষাকে নাগরিক অধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।।

শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ: সিনিয়র সাংবাদিক।।

jsb.shuvo@gmail.com


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান