২য় বর্ষ সংখ্যা ৪৯, জুলাই ০৬, ২০১১ । বুধবার 

হাসিনা, আপনার নোবেল প্রাইজের জন্য আমরা  আপনার পক্ষে থাকব

 

মনামী তাজাল্লী

ঢাকায় রুমানার ঘটনাটা অনেকেরই জানা। স্বামীরুপী সাঈদ কি ধরনের  অমানবিকতার পরিচয় দিল  গোটা বিশ্বের কাছে! বাংলাদেশে এধরনের ঘটনা নতুন  নয়। কিন্তু পাষন্ডের নিত্য নতুন রুপ দেখার ধৈর্যের  আর কতো  পরিক্ষা দিবে  সাধারন মানুষ ?  প্রতিনিয়তই এধরনের ঘটনা  ঘটছে সবার নীরব সম্মতিতে এবং বোনা হচ্ছে আর একটি সাঈদের জন্মের বীজ।

আমাদের প্রধানমন্রী শেখ হাসিনা, অনেক কিছুই করলেন তার শাসন আমলে। ঘর পোড়া তিন মেয়েকে নিজের মেয়ের মতো করে রাজপরিবারের মতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বিয়ে দিলেন। মেয়েদের সমান অধিকার দিবার জন্য আইনও চালু করলেন। এই যে আপনি মেয়েদের জন্য এতো কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু মেয়েদের উপর অত্যাচার করা  মানুষ গুলোর বিচার করছেননা, কেন? আপনার শাসন আমলে একটিমাত্র জিনিষের দাবি জানায় সাধারন মানুষ যা আপনাকে নোবেল প্রাইজের মতো জয় এনে দিবে আপনার হাতে। সেটি হচ্ছে নির্যাতন কারী স্বামীরা যেন সাথে সাথেই দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি পায়। যাতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি   না আর  কখনো না হয়।

যে সমস্ত পুরুষ লেখকেরা মহিলাদের উপর দরদী হয়ে কাব্য কিংবা গদ্য রচনা করেন কোথায় তারা আজ? এই তো সময় আপনাদের উঠে দাঁড়াবার। আপনারা পারেন না সাঈদের বিচারে আজ  প্ল্যাকার্ড ধরে দাঁড়াতে?  কোথায় আপনাদের সেই কলম ?

কোথায় মহিলা সমিতির  নামে হাজারও সমিতির মিছিল? কোথায় তাদের নারীবাদী মুখরা বচন যা উপড়ে দিবে সাঈদের চোখ জনগনের সামনে?

ঢাবির আলামনাই সংঠন বিশ্বের কে কোথায় কোনখানে, দোহাই আপনাদের জেগে উঠুন সাঈদের উপর্যুপরি শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত মুখ বন্ধ করবেন না।

হায়রে বুয়েট! কেউ কি আছে  সেখানে  এর বিচার করতে লাইনে দাঁড়াবে? চিৎকার করে উঠবে দেশের  সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষিত এক  জানোয়ারের (সাঈদের) বিচার দাবী করে তাদের  মান ধরে  রাখতে?

 

দেশের দুই নেত্রী খালেদা কিংবা হাসিনা তাদের কোন পক্ষের শাসন আমলে  মেয়েদের কোন নিরাপত্তা দিতে পারেনি, তারা মহিলা হয়েও ভাবেনি তাদের দেশের মেয়েদের নিরাপত্তার কথা। ছিঃ একি লজ্জার কথা! শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের দিকে নজর রাখতে গিয়ে তারা উদাসিন জনগনের সাধারন চাহিদার প্রতি,  বারবার তাদের লোভি বলে প্রমানিত  করেছে। দেশের নোংরা রাজনীতির  দলীয় সংগঠন  আপনারা যারা দেশের বাইরে তারাও ভালো কিছু ভাবতে পারছেন না কেন? সাঈদের বিচারের দাবিতে একবার মরিয়া হয়ে উঠে তার প্রমান দেখান। প্রতিরোধ করে বন্ধ করুন অন্য আর কোন সাঈদ যেন জেগে উঠতে না পারে এই সমাজে।

পত্রিকার সম্পাদক যারা  পুরুষ নির্যাতনের কথা বলেন  এমন কোন নজীর কি দেখেছেন কখনো নারীরা করেছে পুরুষের উপর?

                          লেখাপড়া করে যে নারী
সে পায় ভালো স্বামী ও বাড়ী।

অথবা, লেখাপড়া করলে মানুষ উন্নত হয়।

সবই ভুল, এক্কেবারে ভুল। সাঈদ এবং রুমানা তাই প্রমান করলেন।

                                       

রুমানার কোন ভুল যদি থাকেও তা এতো জঘন্য নয় সাঈদের নির্যাতনের মতো এবং সাঈদ যা করেছে তা যে কোন সুস্থ মানুষের কাছে জঘন্যতম এবং অমার্জনীয় অপরাধ।
সাঈদ প্রমান করেছে পৃথিবীতে ভ্যলেন্টাইন ডে ভুল। বউ-এর প্রতি কতোটা জঘন্য আচরন করা সম্ভব। সে প্রমান করেছে বাবা দিবস ভুল। বাবা কতো জঘন্য হতে পারে!

আসুন, সুস্থ ভাবনার অধিকারীবলে যারা দাবী করেন , যারা শিক্ষিত বলে দাবী করেন নিজেদেরকে  তারা একত্রিত হোন আজ। যার কাছে কলম আছে তিনি লিখুন, যার মুখ আছে তিনি বলুন, যার যেখানে যতটুকু শক্তি আছে প্রয়োগ করুন। এই পশুর(সাঈদের) উপর্যুপরি শাস্তি হতে আর একমুহুর্ত দেরী নয়।

ইউবিসির উদ্দ্যেগকে  সাধুবাদ জানাই। তারা তাদের কাজে অটুট থাকুক এই প্রার্থনা করি। আরো যারা এগিয়ে এসেছেন এই কাজে তাদেরও শুভেচ্ছা জানাই। সমাজের এই সংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি পাবার জন্য আসুন আমরা আর একবার একত্রিত হয়ে বলি - আমরা সবাই মানুষ। আমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা তৈরী করেছেন একে অপরের পরিপুরক হিসাবে। একে অন্যকে ভালোবেসে বাঁচার জন্য। একটি ছাড়া অন্যটি অচল, মূল্যহীন। মানুষের পরিচয়- সবোলতায়  নয়,  মনুষত্বে। সে কারনেই শ্রদ্ধেয় কবি বলেছেন, পশু-পাখী  জন্মালেই পশু-পাখী কিন্তু মানুষ প্রানপন চেষ্টায় মানুষ