বর্তমান ছাত্র রাজনীতি ও আমাদের প্রত্যাশা
মো: মাসুম আহমেদ
আজ আমরা স্বাধীনতার ৪০ বৎসর পার করে যাচ্ছি কিন্তু আমাদের দেশে গণতন্ত্র এখনও স্থায়িত্ব পায়নি, এখনও আমাদের শঙ্কা আবার অগণতান্ত্রিক শাসন আমাদের গণতন্ত্রকে গিলে ফেলে কি না? আমার মনে হয়
যতদিন না আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতান্ত্রিক ভাবে নেতা নির্বাচন সহ গণতান্ত্রিক আচরণ
করা না হবে ততদিন অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রভাব থেকেই যাবে । এখন এ দেশের বড় দলগুলোতে পারিবারিক
সম্পর্ক, আত্মীয়তা, আঞ্চলিকতার মাধ্যমে নেতা মনোনীত করার যে প্রথা চালু হয়েছে ,তাতে আর যাই হোক
গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। ৯০’ পূর্ব সময়ে আমরা দেখেছি মাঠ থেকে কর্মীদের দ্বারা নেতার নাম প্রকাশ পেত এবং তখন উপরের নেতা বা কেন্দ্রীয় নেতারা চূড়ান্ত মনোনয়ন দিত ।আর এখন নেতা হতে মাঠের কর্মী সমর্থক প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় শুধু বড় বা কেন্দ্রীয় নেতার দয়া বা আশীর্বাদ পাওয়ার
পথ । এখন নেতা আগে মনোনীত হন ,তারপর কর্মীরা নেতাকে চেনে।এভাবে নেতা মনোনীত হয়ার ফলে
যা ঘটছে তা হল মিরপুর বাংলা কলেজের ছাত্র -ঢাকা কলেজের ছাত্র নেতার মনোনয়ন ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়েও বিভিন্ন হল শাখার সভাপতি বা সাধারন সম্পাদক ।এমন কি প্রাতিস্টানিক শিক্ষা না থেকেও আছাত্র পিন্টু হয় জাতীয়তা বাদী ছাত্র দলের সভাপতি ।ইতিমধ্যেই পত্রিকায় [বিভিন্ন সময়ে ]
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বিশেষত ঢাকার জাতীয় শিক্ষা প্রতিস্তান গুলোতে ছাত্র নেতা -নেত্রিরা ভর্তি বাণিজ্য,
আবাসিক হল গুলোতে সিট বানিজ্যের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।আর এসকল বানিজ্য কেন্দ্রিক দন্ধে দলগুলোতে উপ -দলিয় কোন্দলে মেধাবি ছাত্র হত্যার মত ঘটনাও সকলের জানা ।এটা একটা স্বাধীন দেশের
ছাত্র রাজনীতির বর্তমান চিত্র ,যা কোন ভাবেই সুনাগরিকের সমর্থন পেতে পারে না ।বিশেষত বড় দুটি দলের ছাত্র সংগঠন এর নেতা কর্মীরা জাতীয় শিক্ষা প্রতিস্তান গুলোতে গ্রামীণ কৃষক শ্রমিকের সন্তানদের
জিম্মি করে যেভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে সিট বানিজ্য চালাচ্ছে ,তাতে দলগুলোর ভবিষ্যৎ কি ?আজ গ্রামীণ
কৃষক শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার পথ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ।কিছু দিন পূর্বে বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইডেন কলেজের বিবাদ মান দুই গ্রুপের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে যে চিত্র
এসেছে –তা কি আমরা ভুলে গেছি ?সেই কলেজের আবাসিক হলে সিট পেতে একজন সাধারন ছাত্রীকে নগদ
নুন্যতম ১০০০০ /দশ হাজার টাকা এবং মাসিক নুন্যতম ১০০০ /এক হাজার টাকা দিতে হবে কেন ?এই ভাবে যারা টাকা দিতে না পারে তারা নেত্রীদের নির্দেশ মত [পতিতাবৃত্তি ] চলতে বাধ্য হবে কেন ? আর এসকল নেত্রীরা এ কাজগুলো করছে সরকারের নিয়োগী প্রশাসনের সহযোগিতায় ।
৮০’দশকে ছাত্র রাজনীতি আমরা দেখেছি ।কিন্তু ৯০’ পরবর্তী ছাত্র রাজনীতিতে এসে প্রথম ডাকসু র ভি পি
জি এস এবং তাদের সাথে তৎকালীন সর্ব দলীয় আরো কতিপয় নেতারা দুর্নীতিবাজদের কালো তালিকা বানানোর মাধ্যমে যে দুর্নীতির মডেল চালু করেছিল সময়ের ব্যবধানে আজ তা এরূপ ধারন করেছে মাত্র ।
৯০’ পরবর্তী ছাত্র রাজনীতি ক্রমেই আয়ের এক সহজ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে ।ছাত্র রাজনীতির মুল দ্রোহ
আজ নেই, আছে শুধু নগদ অর্থ উপার্জনের নতুন নতুন কৌশল - যা বলতে গেলে ৯০’ পরবর্তীদের উত্তরাধিকারে
প্রাপ্ত ।
শিক্ষার জন্য রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা প্রতিস্তানে এসে এরা টেন্ডারবাজী , চাঁদাবাজি ,পতিতাবৃত্তি তো শিখবেই ।
এখন একটি ওয়ার্ড কমিটির নেতা হবার জন্য ৫ /৭ লাখ টাকা খরচ করতে হয় ,আর সেই খরচের টাকা
উঠানোর জন্য টেন্ডারবাজি -চাদাবাজি তো করতেই হবে , তাই আসুন সময়ের ভাবনা সময়েই ভাবি ।নয়তো
আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি?