কাউকেই খুশী করা গেলো না-!
সাঈদ তারেক
কোন কোন সপ্তাহে লেখা শুরুর আগেই শিরোনাম ঠিক হয়ে যায়। কোন সপ্তাহে এমন হয়, লেখা শেষ হয়ে গেছে শিরোনাম আর খুঁজে পাই না। কখনও লিখতে লিখতেই শিরোনাম এসে যায়। এ সপ্তাহের লেখার শিরোনাম ঠিক করে রেখেছিলাম তিন দিন আগেই। দেখি পর দিনই সুরঞ্জিত দা’ আমার শিরোনামটা বলে ফেলেছেন! একটু অবাকই হয়েছি, মিলিলো কেমনে!
সংবিধান সংশোধন হয়ে গেলো গত সপ্তাহে। এর আগে অনেক ঘষামাজা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বিস্তর মিটিং সিটিং করেছেন। রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবি পেশাজীবি থেকে শুরু করে নানা কিসিমের বিশেষজ্ঞদেরকে ডেকে ডেকে তাদের মতামত সুপারিশ নিয়েছেন। পন্ডিতকূলকে দেখা গেছে জ্ঞানগর্ভ সারগর্ভ সব বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে গলদঘর্ম হতে। কে কত যুৎসই প্রস্তাব পরামর্শ দিয়ে নেত্রীর নেক নজরে আসবেন তার একটা ছোটখাট প্রতিযোগীতাও হয়ে গেলো সে সময়। মনে মনে বেশ হাসিই পেতো ওই কেরিক্যাচার দেখে। কয়েকটা লেখায় আমি লিখেওছি যে, এইসব বুদ্ধি পরামর্শ প্রস্তাব সুপারিশ শেষ পর্যন্ত গারবেজ বীনে ঠাঁই পাবে। কারন আখেরে সেটাই হবে যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলবেন!
হয়েছেও তাই। তাবৎ পন্ডিতকূল, বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ, বড় বড় বোদ্ধা, সংবাদিক কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবিরা মিলে যা যা বলেছিলেন তার একটাও সংশোধনীতে নেয়া হয় নাই। বিশেষ কমিটি প্রধানত সরকার সমর্থক এবং সরকার বান্ধবদেরকেই ডেকেছিলে মতামত দিতে। এদের কেউ কেউ বলেছিলেন তত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটা তুলে দেয়া ঠিক হবে না। দুই একজন তখনও নিশ্চিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবেন, তারপরও রিষ্ক নিয়ে বলে ফেলেছিলেন তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয়া হোক। এখন লেগে গেছে! ব্যবসায়ীরা অবশ্য গোড়া থেকেই তত্বাবধায়কের নামে ভয়ে কম্পমান। ওয়ান ইলেভেন ওয়ালারা ব্যবসায়ী পরিচয়ের কিছু চোর বাটপার দূর্বৃত্ত লুটেরার মাজায় দড়ি লাগিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের যে কোন তত্বাবধায়ক সরকারকেই ভয়, যদি তারাও এসে চোর ধরা শুরু করে! যাই হোক, তত্বাবধায়ক প্রশ্নে সরকারি ঘরানার পরামর্শদাতারা ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিলেও একটা ব্যপারে অভিন্ন মত দিয়েছিলেন, সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়া হোক।
এই জায়গায় এসে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে কলা দেখিয়ে দিয়েছেন! বলেছেন, ওই দুইটা বিষয় থাকবে। কমিটি আর কি করবে, তারাও বলেছে থাকবে! প্রধানমন্ত্রী যদি বলতেন থাকবে না, কমিটিও বলতো থাকবে না। কর্তায় ইচ্ছায় কীর্তন বলে কথা! শেষ পর্যন্ত আমাদের সুরঞ্জিত দা’কেও অত্যন্ত বেদনা ভারাক্রান্ত মনে সেই কীর্তন গাইতে হয়েছে। তিনি স্বীকারও করেছেন এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন জটীল পরিস্থিতিতে তিনি আর কখনও পড়েন নাই। সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক আর ধর্ম নিরুপেক্ষতার রাজনীতি করে শেষ পর্যন্ত মৌলভি সাহেব হতে হয়েছে! সংবিধানে বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কবুল করতে হয়েছে!
আসলে আমাদের দেশে রাজনীতি বলতে তো আর কিছু নাই, আছে তোষননীতি চাটামীনীতি মতলবনীতি। একটা লেখায় আমি লিখেছিলাম, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতা হচ্ছেন দুইজন, শেখ হাসিনা আর বেগম খালেদা জিয়া। এসব দলের অফিস বেয়ারার বা বিভিন্ন পদের কর্মকর্তারা হচ্ছেন ‘পলিটিক্যাল অফিসার’। এজন্যে যে, এরা কখনও সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হন না। দলের প্রধান এদেরকে নিয়োগ দেন। এরা হচ্ছেন নেতা ‘বাই এপয়েন্টমেন্ট’। আর্মি ষ্টাইলে এই ‘বাই এপয়েন্টমেন্ট পলিটিক্যাল অফিসার’ নিয়োগের চল এ দেশে প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। দশ বার বছর আগে আওয়ামী লীগের ওপর তা আছড় করে। এই সিস্টেম অনুযায়ী দলের বাদ বাকিরা হচ্ছেন পলিটিক্যাল ওয়ার্কার, যার হাল বাংলা হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মচারি। পলিটিক্যাল অফিসাররা তাদের নিয়োগকর্তার কাছে সব সময় দায়বদ্ধ থাকেন। এদের নিজস্ব কোন সত্বা অনুভূতি মতামত থাকতে নেই। যেমন সেদিন সুরঞ্জিত দা’ বলেছেন, আমি এখন আওয়ামী লীগ করি আর শেখ হাসিনা হচ্ছেন আমার নেত্রী। যার অর্থ নেত্রী খুশী তো আমিও খুশী! বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পক্ষে বিভক্তিভোটে ভোট দিয়ে এসে এ ছিল তার খেদোক্তির এক ধরনের প্রকাশ। তারপরও তিনি বলতে পারেন নাই আমার আজন্ম লালিত রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে আমি সড়ে আসতে পারবো না। আমি ওই সংশোধনী প্রস্তাবে সই করবো না। বলেন নাই কারন তিনি এখন শেখ হাসিনার চাকরি করছেন। আর যে কোন চাকরির শর্তই হচ্ছে বসের ইচ্ছার বাইরে যাওয়া যাবে না। গেলে অবধারিতভাবে চাকরি নট। এই বয়সে নীতি ফলাতে গিয়ে কে চায় অমন আরাম আয়েশের জীবন বিসর্জন দিতে!
এবারের সংসদে কয়েকটা ‘তিন নম্বর বাচ্চা’ আছে। এরা না খেয়েই লাফায়। মেনন ভাই ইনু ভাই এখন আওয়ামী লীগারদের চাইতেও বড় আওয়ামী লীগার। এদের আওয়ামী প্রীতি আর বঙ্গবন্ধু ভক্তি দেখে অনেক সময় আওয়ামী লীগাররাই টাশ্কা লেগে যায়। সেদিন শুনলাম ইনু ভাই কোথায় যেন কিবরিয়া হত্যা আহসানউল্লাহ মাষ্টার হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে চিৎকার করতে করতে নাকি গলার সাউন্ডবক্স নষ্ট করে ফেলেছেন। অথচ এই ইনু ভাইদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে যে হাজার হাজার তরুন যুবক একদা প্রাণ দিয়েছিলো সেই বাদল বিশ্বাষ সিদ্দিক মাষ্টার মন্টু জাফরি হাদীদের কথা আজ তার মনে পড়ে না। এইসব হতভাগ্যদের নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবী করেন না। করেন না হয়তো দায়টা তাদের ঘাড়ে এসেই বর্তাবে সেই ভয়ে।
সে যাই হোক, মেনন ভাই ইনু ভাইরা সারা জীবনের বাম। অন্তত: এখনও সাইন বোর্ডটা ঝুলিয়ে রেখেছেন। এই বামারা মহাজোট নাম দিয়ে হালুয়া রুটির লোভে এবার আওয়ামী লীগের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছেন। এটা তাদের মজ্জাগত। আমাদের দেশে বামারা হচ্ছে এক ধরনের পরগাছা বা প্যারাসাইটের মতো। এরা কখনও নিজেদের শক্তিতে বা নিজেদের ওপর ভর করে চলতে পারেন না। সব সময় তত্ব খাড়া করে কারও না কারও ঘাড়ে সওয়ার হয়ে যান। পাকিস্তান আমলে এক শ্রেণীর বামা আইউব খানকে সমর্থন করতেন, কারন চীনের সাথে আইউব খানের দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন যেহেতু পাকিস্তানের পক্ষে ছিল বামাদের একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি’ আখ্যা দিয়ে ইন্ডিয়ান আর্মি আর মুক্তিযোদ্ধাদের টার্গেট হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এক শ্রেণীর বামা বঙ্গবন্ধুর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে রাতারাতি বাড়ী গাড়ী সয় সম্পদের মালিক বনে যান। জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হলে আর এক কিসিমের বামা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ওভারগ্রাউন্ড হন। আব্দুল হক, ‘গলাকাটা’ মতিন, মো: তোয়াহা, দেবেন শিকদার, আলাউদ্দিন আহমদরা এ সময় জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসেন। মো: তোয়াহা তো সরকারি বদান্যতায় সংসদ সদস্যই নির্বাচিত হয়ে আসেন। বামপন্থী বলে পরিচিত ভাসানী ন্যাপ বিএনপির মধ্যে লীন হয়ে যায়। মষ্কোপন্থী বামারা এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমানের সাথে খাল কাটতে নেমে যান। ভদ্রলোক অসময়ে মারা না গেলে শেষ পর্যন্ত এরা তার ঘাড়েও উঠে বসতেন না, বলা যায় না। আর এক প্রকার বামা এরশাদ সাহেবের ঘাড়ে সওয়ার হন এবং এক সময় তাকে ডোবান।
আমাদের দেশের বামারা যেন সব সময় সুযোগের ফিকিরে থাকেন কখন কার ঘাড়ে চেপে বসা যায়। ইনু ভাই মেনন ভাইদের কপালে এবার শিকে ছিড়েছে। শেখ হাসিনা তাদেরকে নৌকায় ঠাঁই দিয়েছেন। নমিনেশন দিয়ে এমপি বানিয়ে এনেছেন। কি কি সব সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানও বানিয়েছেন। ভাব দেখে মনে হচ্ছে জীবন ধন্য হয়ে গেছে, রাজনীতি করা সার্থক হয়ে গেছে। এই ইনু-মেনন ভাইদেরকে দেখলাম ক’দিন লাফাচ্ছেন! তিন নম্বর বাচ্চারা সব সময়ই লাফায়। কিছু পেলে ঠান্ডা হয়, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু এবারের লাফালাফির আব্দার ছিল সংবিধানে বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা যাবে না, যেন বাক্সে ভোটটা এনে দেবেন তাদের বাবা আর দাদারা! সেদিন পেপারে দেখলাম, কয়েকটি বাম দল নাকি বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের দাবীতে সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল করছে। প্রথমে একটু খটকাই লেগেছিল, সব বামা তো মহা জোটে ঢুকে বসে আছে। মিছিল করে এরা কারা! ভাল করে পড়ে দেখি এর মধ্যে আমাদের ইনু ভাই মেনন ভাইদের দলও আছে। দ্বিধায় পড়ে গেছিলাম তাহলে কি ইনু ভাই মেনন ভাইদের মধ্যে এত দিনে পৌরুষভাব জাগ্রত হয়েছে! কিন্তু না, ভেড়া যেমন সময় হলে সুড়সুড় করে খোয়াড়ে ঢোকে, কিছুক্ষণ গাইগুই করে শেষ পর্যন্ত ইনু ভাই মেনন ভাইসহ তাদের ষড় পান্ডবকুল ঠিকই ‘বিসমিল্লাহ’ আর ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ কবুল করে নিয়েছেন! বাংলা মোটরের মোড়ে পুলিশের প্যাদানী খেয়ে এসব দলের বাদবাকিরা সেই যে আন্ডারগ্রাউন্ড হয়েছেন সম্ভবত: পোস্তগোলা দিয়ে বের হয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে উঠবেন! ধন্য এদের রাজনীতি! সুরঞ্জিত দা’র মত সারা জীবনের লালিত বিশ্বাস কোরবানী দিয়ে দিলেন, হালুয়া রুটীর লোভ ছাড়তে পারলেন না! এই হচ্ছে আমাদের দেশে বাম রাজনীতির নামে ভন্ডামী প্রতারনার আর এক জলজ্যান্ত উদাহরন।
বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বলে বিশেষিত প্যাদানী ছ্যাদানী কোরাম ফোরাম জাতীয় কয়েকটি সংগঠন কয়েক দিন খুব মাঠ গড়ম করলেন। ‘পে-রোলের’ এক কর্মচারি একবার হুমকি দিলেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল না করা হলে তারা আদালতে গিয়ে রীট করবেন, দেশে হরতাল ডাকবেন। মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রীর এক ধমকে সব শেয়াল একেবারে গর্তে ঢুকে গেছে। কারও মুখে রা নাই আর। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়ে যাওয়ার পর কেউ আর কোন কথা বলছেন না।
তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নাখোশ, ‘আল্লাহ’র ওপর আস্থা’ বাদ করে দেওয়ায় হুজুররা ক্ষিপ্ত, বিসমিল্লাহ আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখে দেয়ায় বামারা মর্মাহত, ইসলাম মুসলিম নামধারী দলগুলোকে রাজনীতি করার অধিকার দেয়ায় ‘পে-রোলের কর্মচারিরা’ হতাশ, আওয়ামী লীগের ভেতরে ‘মষ্কাইটরা’ হতাশ- শেখ হাসিনা ভাল একটা শিক্ষা দিয়েছেন সব মতলববাজ ধান্ধাবাজদের। এবং সেই সাথে এটাও প্রমান করেছেন, দল গোষ্ঠী এবং সরকারে তিনিই একমাত্র পলিটিশিয়ান বাদবাকি সব তার রায়ত প্রজা অধস্তন কর্মচারি, আজ্ঞাবহ দাস ছাড়া আর কিছুই নয়!
সুরঞ্জিত দা’র ক্ষোভ, এমন সংশোধনীই পাশ করলাম কাউকে খুশী করতে পারলাম না। তাই যদি বুঝে থাকেন, দাদাকে এ প্রশ্ন তো করা যায় তাহলে এমন কাজটা করলেন কেন! জানি কোন জবাব নাই তার। থাকলেও মুখ ফুটে বলতে পারেন না। আসলে সারা দুনিয়া খুশী না হলেও এই সংশোধনীতে একজন খুশী হয়েছেন, যার ওপর তাবৎ সুরঞ্জিত দা’র চাকরি প্রমোশন তথা ভাগ্য নির্ভরশীল। সুরঞ্জিত দা’দের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না! সে জন্যেই বুকের ব্যথা বুকে পুষে শুধু গুমড়ে মরেন।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিজের ইচ্ছামর্জিমাফিক পাশ করিয়ে নেত্রী দেশ জাতি জনগনের কতটুকু কল্যান অকল্যান করেছেন সে আলোচনা আজ নয়। বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া, মনমহন সিংয়ের ‘নন জাজমেন্টাল’ মন্তব্য, দেশে আন্দোলন হরতাল নিয়ে আগামী সপ্তাহে লেখার ইচ্ছা রইলো। আজ একটা কথা বলে শেষ করতে চাই, সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ওপর নির্ভরশীল তাবৎ মতলববাজ সুবিধাবাদী ধান্ধাবাজদেরকে যেভাবে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুড়িয়েছেন, তা ছিল দেখার মত। অন্তত: আমি বেশ মজা পেয়েছি এই সার্কাস দেখে! ইচ্ছামতো এত দিন সব ক’টাকে উঠিয়েছেন, বসিয়েছেন। এসাইনমেন্ট দিয়ে মাঠে নামিয়ে সূতোর টানে টানে নাচিয়েছেন। এবং শেষে সবগুলোর গালে কষে একটা ‘রাজনৈতিক চড়’ মেরে দিয়েছেন! এদের আসল রুপ উন্মোচিত করেছেন, এদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আদর্শের নামে ভন্ডামি শঠতার মুখোশ খুলে দিয়েছেন। আকল থাকলে এসব প্যারাসাইটরা আর বড় বড় কথা বলবে না। ইজ্জত থাকলে মানুষের সামনে মুখ দেখাবে না। ধান্ধাবাজীর উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে আর কারও ঘাড়ে সওয়ার হওয়ার চান্স পাবে না। অন্তত: এই কাজটা করার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ!
৪ জুন, ’১১
saeedtarek@yahoo.com