২য় বর্ষ সংখ্যা ৪৯, জুলাই ০৬, ২০১১ । বুধবার 

আওয়ামি লীগ বনাম আওয়ামি লীগ

 

বেলাল বেগ
আওয়ামি মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ ছেটে বাদ দেয়া ছিল বাঙালিদের একটি নীরব রাজনৈতিক বিপ্লব। বিপ্লবীরা প্রায় সবাই জাঁদরেল মুসলমান ছিলেন। তাঁরা ছিলেন আমাদের রাজনৈতিক আকাশের এক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যেমন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভা্সানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবর রহমান প্রমুখ। ধর্মনিরপক্ষ আওয়ামি লীগের জন্ম বাঙালির ইতিহাসে একটি মাইল ফলক। এই প্রথম ঐতিহাসিক বাঙালি তার হাজার বছরের জাতিগত বোধকে সুসংহত করে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল। আওয়ামি লীগের প্রতিষ্ঠাতারাই হচ্ছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রসেনানী।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠাতারা মুসলিম লীগের নেতা হিসাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতেও অগ্রনী ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই নেতারাই তাঁদের শিরোপরের ‘মুসলিম’ তাজ খুলে ছুড়েঁ ফেলে দিলেন। কেন?
ভারতবর্ষ পদানত রাখার জন্য বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ কুখ্যাত ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ অর্থাৎ দলাদলি তৈরি করে একদলকে অন্য দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে রাখ’ নীতি অনুসরণ করত। এ নীতির কুফলে ভারতবর্ষের প্রধান দুটি সম্প্রদায়, হিন্দু ও মুসলমানদের শেষ পর্যন্ত একসংগে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তখন পাকিস্তান আদায় করাটাই ছিল তদানিন্তন নেতাদের কাছে শান্তির একমাত্র এবং জরুরি উপায়। কিন্তু জন্মের পরেই তাঁরা লক্ষ করলেন পাকিস্তানের সংগে সাধারণ জনগনের কল্যাণের কোন সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান ধনী মুসলমানদের একটি ড্রাকুলা রাষ্ট্র। পাকিস্তানকে নবাব, জমিদার ও ধনিক শ্রেনীর হাত থেকে উদ্ধার করে জনগনের হাতে তুলে দিতে আমাদের নেতারা প্রথমে তৈরি করেছিলেন, ‘আওয়ামি’ (জনতা) মুসলিম লীগ। কিন্তু জনগন সবাই মুসলমান ছিল না। জনগনের মধ্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বাঙালি মানুষ ছাড়াও ছিল উপজাতীয়রা। এই চৈতন্যের উদ্রেক হওয়া মাত্রই মুসলিম রাষ্ট্রের মহান বাঙালি নেতারা সদ্য গঠিত দল থেকে মুসলিম শব্দটি উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামি লীগকে ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আওয়াম জনতার মঞ্চে রূপান্তরিত করলেন। এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতিসত্ত্বা চিরকালের জন্য তার গতিপথ পেয়ে গেল। নতুন প্রাণ পেল চন্ডীদাসের বানী, “ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। বস্তুতঃ ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে সকল মানুষকে  সমান মর্যাদা দিয়ে একই কাতারে নিয়ে আসা হল। সব মানুষই যদি সমান মর্যাদার হয়, তাহলে কেউ খাবে আর কেউ খাবেনা তা হবেনা, হতে পারেনা। বাঙালিদের এই গনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক জীবনবোধ মার্ক্স-এঙ্গেলসের জন্মের বহু আগে এমনকি আমেরিকা আবিষ্কারেরও আগে উচ্চারিত ছিল। স্বাধিনতার পর আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরেপেক্ষতার আদর্শ সংযোজনের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে আমাদের একাত্মতা ঘটে গেছে।
আওয়ামি লীগের জন্মের পর, দু’শ বছর বৃটিশের গোলামি সহ হাজার বছর ঘুমিয়ে থাকা বাঙালি ধীরে ধীরে আত্মসম্বিত ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে লাগল। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের ধর্মান্ধ মুঢ়তা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠতে থাকে বাঙালি জনসাধারণের কাছে। পাকিস্তানীরা বাংলাকে  হিন্দুভাষা বলতে আরম্ভ করে এবং রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব করে।  এ সবে বাঙালিরা ফুঁসে উঠতে শুরু করে। ঠিক এ সময়ে বাংলাকে রাষ্টভাষা করার দাবীতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশ গুলি চালালে বাঙালির জাতীয়তাবোধ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মত বিস্ফোরিত হয়। বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেল, কিন্তু জাতীয়তাবাদের জোয়ার আরও বেড়ে গেল। নানা অভিজ্ঞতায় পুষ্ট ও শক্তিশালী হয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ শেষ পর্যন্ত মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয়। অসামান্য নেতৃত্ব ও বীরত্ব দেখিয়ে বাঙালি নিজেদের জন্য ইতিহাসের প্রথম স্বাধিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে বাঙালির জাতীয়তাবাদ অমরত্ব লাভ করে।
ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ সহাবস্থান করতে পারে। কিন্তু তাদের একটিকে বাছাই করতে হলে, ওরা পরস্পরের শত্রু হয়ে যায়। কারণ ধর্মানুসারীরা মনে করে তাদের জীবনের নিয়ন্তা অদৃশ্য বিধাতা, মানুষ নয়। তাদের মতে রাষ্ট্রের কাজ কেবল ধর্মরাজ প্রতিষ্ঠা। প্রত্যেক ধর্মই যদি রাষ্ট্রটিকে নিজের করে নিতে চায়, ঐ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অনবরত সংঘাত-সংঘর্ষ চলতেই থাকবে; রাষ্ট্রটি অকার্যকর থাকবে। ইউরোপীয় ইতিহাসের একটি বিরাট অধ্যায় কেটেছে খৃষ্টধর্মমতে রাষ্ট্র পরিচালনায়। এক সময় চারজন রাজা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতেন তাঁরা ইশ্বরের প্রতিনিধি হয়ে দেশ শাসন করছেন। কিন্তু সভ্যতা বিকাশের অমোঘ ধারায় সে ধর্মরাজ্য বাস্তবের আলোক ঝলক থেকে উৎক্ষিপ্ত হয়ে কল্পনার রঙীন সাগরে ডুবে যায়। নেপলিয়ানের অভিষেকে প্রধান পাদ্রীর উপস্থিতেই তাঁকে মুকুট স্পর্শ করতে না দিয়ে নেপলিয়ন নিজেই তাঁর তলোয়ার দিয়ে মুকুট তুলে নিয়ে মাথায় পরেছিলেন। ঐ ঘটনায় রাষ্ট্রের সংগে ধর্মের সম্পর্ক চিরকালের জন্য নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
ইউরোপীয় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি মুসলমানেরা। হজরত মোহাম্মদের মৃত্যুর পর পর চার খলিফার রাজত্বকাল- খোলাফায়ে রাশেদীনকে আদর্শ হিসাবে ধরে রাখার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যেতেই থাকে মুসলমানেরা। ইতিমধ্যে মুসলমান শাসকেরা নিজেদের সম্রাট, রাজা, সুলতান, নবাব ইত্যাদি পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। তথাপি ক্ষীয়মান শক্তির অটোম্যান সম্রাটেরা নিজেদের ইসলামিক দুনিয়ার প্রতীকী খলিফা হিসাবে সন্মান ও স্বীকৃতি আদায় করে নিচ্ছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম জোরদার করতে গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। তাতে যোগ দেবার জন্যে মুসলমানদের আহ্বান জানানো হলে, তুরস্কের সুলতানের ‘খিলাফত’ রক্ষার আন্দোলনে সযোগিতার শর্তে তারা রাযি হয়েছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ে ভারতীয় মুসলমানদের বোকার স্বর্গবাস সমাপ্ত হয়। কিন্তু ধর্মরাজ্যের খোয়াব আর কিছুতেই নামেনা ধর্মান্ধদের মাথা থেকে।
পাকিস্তান ভারতীয় মুসলমানদের কল্পিত ধর্মরাজ্য। মওলানা মওদূদীর দল জামাতে ইসলামি আরো এক ধাপ এগিয়ে  ইসলামিক সাম্রাজ্যের স্বপ্ন দেখতে থাকে। ইসলামিক সাম্রাজ্যের ভূতের প্ররোচনায় বাঙালিদের নৈতিক চরিত্র, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ঐতিহাসিক বিবর্তন অস্বীকার করে বসে পূর্বপাকিস্তান জামাতে ইসলামি। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তথাকথিত ইসলাম-পন্থিরা বাঙালিদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামের বিরোধিতা করেছে। তাদের একমাত্র লক্ষই হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস। একাত্তরে ইসলামি হুকুমাত-পন্থি পাকিস্তান, গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল সৌদি আরব, মওদূদী ফেরকার জামাতে ইসলামি এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে তাদের প্রতিপালক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসংগে শক্তি প্রয়োগ করেও বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধ্বংস করতে সমর্থ হয়নি। শেষ চেষ্টা হিসাবে তারা বিশ্বাসঘাতকদের মাধ্যমে জাতির পিতাকে সপরিবারে এবং শীর্ষস্থানীয় আওয়ামি লীগ নেতাদের হত্যা করে গোপনে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে। কালবিলম্ব না করে তারা বাঙালী জাতীয়তাবাদ ধ্বংসের লক্ষে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন গোয়েন্দা অফিসার জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়ে তাকে দিয়ে নতুন পার্টির আবরণে ধর্মভিত্তিক মুসলিম লীগ রাজনীতি শুরু করানো হয়। সংবিধানে বিসমিল্লাহ ঢুকিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে দাফন এবং সমাজতন্ত্রের ধারণাকে অর্থহীন করা হয়। স্বাধিনতাত্তোর সারা দেশে বাংলা সংস্কৃতির যে আবহ গড়ে উঠছিল ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে তা ঝেড়ে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের পরাজিত শত্রুজোটের দালালদের হাত থেকে দেশটাকে পুনরুদ্ধার করতে আবারও মুক্তিসংগ্রামের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। ধর্মধাপ্পাবাজ লুটেরা পাকিস্তানীরা ছিল অবাঙালি। এখনকার ধর্ম-ধাপ্পাবাজিপূর্ণ রাজনীতির লুটেরাগন জাতিতে বাঙালি হলেও কঠোর স্বজাতি বিদ্বেষী। তাদের সঙ্গে গনতান্ত্রিক যুদ্ধ পাকিস্তানী আমলের চেয়ে বহুগুনে কঠিন ও জটীল। পাকিস্তান আমলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, আর এখন তাঁর ন্যায়দন্ড রয়েছে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার হাতে। একইভাবে পিতা-পুত্রীর মাঝে আদর্শের পতাকা বদল হয়েছিল ভারতে। ইন্দিরা বাবা জওহরলাল  নেহরুর প্রদর্শিত পথে ভারতকে এগিয়ে নিতে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা দেখব বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্থপতি এবং বাংলাদেশের জন্য আত্মবিসর্জনকারী ‘জাতির পিতা’র উত্তরাধিকারী ৩০ লক্ষ শহীদের দেশটাকে সাম্প্রদায়িক দৈত্যদের হাত থেকে কিভাবে বাঁচাতে সক্ষম হন।
আজকের প্রধান মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার কোন রাজনৈতিক স্বপ্ন ছিল কিনা জানা যায়নি। ছাত্রজীবন শেষ করে তিনি গার্হস্থ জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। বাংলাদেশের শত্রুদের অতর্কিত আক্রমনে ছত্রভঙ্গ ও হতবল আওয়ামি লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রামের সিংহাসনে লক্ষন কতৃক স্থাপিত রামের খড়মের মত শেখ হাসিনাকে আমাদের মহান নেতার আসনে বসান হয়। আশা করা হচ্ছিল তাঁর সিদ্ধান্তসমূহ সে সময়ের জ্যষ্ঠ এবং পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বীত মতামত হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল বর্তমানের অবিসম্বাদিত নেতা শেখ হাসিনা তদানীন্তন পৃথিবীর বহু দেশে বিরাজিত প্রথা ‘এক দেশ, এক নেতা’র ধারণাটিকে গ্রহন করা শ্রেয় মনে করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে জনগনের অন্তরে তাঁর স্বাভাবিক ঠাঁই হওয়ায় এতে তাঁর সুবিধাই হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ, আওয়ামি লীগ অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের চর্চা এবং নেতৃত্ব বিকাশের ধারা।
একক নেতৃত্বের সুবিধা ও বিপদ দুটোই রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। পরিবেশ ও পরিস্থিতে বাঙালিদের জন্য একজন বঙ্গবন্ধুর প্রয়োজন হয়েছিল। জনগনের অন্তর জয় করে, তাদের পরিপূর্ণ আস্থা নিয়ে, সে পরিবেশ-পরিস্থিতি আবার তিনিই রচনা করেছিলেন। তাই তাঁর অবর্তমানেও  আমরা যুদ্ধ করে স্বাধিন হতে পেরেছি। আবার তিনি যখন নিহত হলেন একা, অপ্রস্তুত আওয়ামি লীগ এবং জনগন তৎক্ষনাৎ শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারলনা। এ কথা সত্য, স্বাধিনতাত্তোর নূতণ ও আরও কঠিন দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য দলকে উপযুক্ত শিক্ষা ও দীক্ষা দিয়ে যাবার সময় ও সুযোগ পা’ন নি বঙ্গবন্ধু। তার পরেও আওয়ামি লীগ একটি শক্তিশালী দল কারণ মাত্র একটি – বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। শেখ হাসিনার সুযোগ ছিল ঐ আদর্শকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার। কিন্তু একক নেতৃত্বের চাপে পার্টির প্রতি সময় দেবার সময় তাঁর হয়নি এবং এখনও হচ্ছেনা। ফলে পার্টি এখনও বিশাল বিকট জন্তুর মত নিজভারে অসহায় পড়ে আছে। কেবল নির্বাচন এলেই এটা নড়েচড়ে উঠে স্বমূর্তি ধারণ করে। জিতে গেলে এতকালের ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে ব্যস্ত হয়; হেরে গেলে আবার গিয়ে শুয়ে পড়ে। রাজনীতি যে জনগনের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য একটি বিরতিহীন সংগ্রাম এ কথা পার্টির কোথাও উচ্চারিত থাকেনা।
আওয়ামি লীগ যদি তার আদর্শ ও লক্ষ্যে অবিচল থাকত, সাংগঠনিক সক্রিয়তায় স্বতেজ ও অদম্য থাকত, স্বাধিনতার শত্রু, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের সংগে গোপন দহরম মহরহমের এবং আরেক ধর্মধাপ্পাবাজ, বিশ্ববেহায়া এরশাদের সংগে হাত মেলানোর দরকার হতনা। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধিনতা অর্জনকারী বঙ্গবন্ধুর পার্টি শক্তিশালী থাকলে, গনতন্ত্র-ঘাতক সামরিক শাসন বাঙালি জাতির যে অপূরনীয় ক্ষতি করেছে, তার সুযোগ হতনা কখনই।
মজার কথা, যে রাজনৈতিক দর্শন আওয়ামি লীগের জন্ম দিয়েছিল, তা আজ পার্টিতে না থাকার কারণে, জাতীয়তাবাদের শত্রুরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ পেল। এই সংগে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিসর্জন দিয়ে আওয়ামি লীগই আওয়ামি লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়াল।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পুনঃপ্রবর্তন ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিসর্জন যদি বিজ্ঞজনোচিত পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তবে বিএনপির দূরদর্শিতাকেই দেশবাসী দাম দেবে বেশি। দেখা যাচ্ছে, আওয়ামি লীগ নিজেই নিজের কবর খুঁড়েছে। 
সক্রেটিস জেনে শুনে বিষপান করেছেন নৈতিক তাকিদে। শেখ হাসিনা কোন তাকিদে জেনেশুনে বিষপান করেছেন? যে তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল স্বপ্নে উদ্দীপ্ত হয়ে আওয়ামি লীগকে সমর্থন করেছিল, ভোলপাল্টানো আওয়ামি লীগকে তারা কি আর বিশ্বাস করবে? বাঙালি জাতির অহংকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষা করার এখনও সময় আছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আগের মতই নিষিদ্ধ থাকুক, থাকুক বহাল ধর্মনিরপেক্ষতা। বিসমিল্লাহ দিয়ে গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেলকে অপাংত্তেয় করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।।