৮ময় বর্ষ সংখ্যা ৪৯ | সাপ্তাহিক  | ১৬ আগস্ট ২০১৭ | বুধবার
কী ঘটছে জানুন, আপনার কথা জানান

বীথির কাছে চিঠি-৩১

লুনা শিরীন

আমার এই লেখাগুলো সেই মেয়েটার জন্য যে অদ্ভুতভাবে বেচে থাকতে থাকতে একদিন মরে যাবার জন্য প্রাথনা করে, কিন্তু তবুও মেয়েটি মরে না, সেই মেয়েটার জীবন থেকে অসম্ভব সুন্দর সকাল গড়িয়ে দুপ্পুর আসে, রাত আসে, ভোর রাত আসে, আবার সকাল হয় –কিন্তু সুদু মেয়েটির মৃত্যু আসে না। একদিন যে যুবককে ভালোবেসে মেয়েটির সংসার করার  স্বপ্ন   মুহূর্তেই   ভেঙ্গে গিয়েছিলো, সেই মেয়েটি সুদু মাত্র একজন যুবক কে ভুলতে পারে না । কত কত সৃতি ভুলে যায় মেয়েটি কিন্তু মাত্র একজন  যুবক-কে মাত্র এক মিনিটের জন্যো ভোলে না  ও --- আমার এই লেখা সেই আবেগপ্রবণ মেয়েটির জন্য ।

বীথি, তোকে কি বলেছিলাম, নীরব দুপুর, শুনশান থমথমে  দুপুর আমার খুউব  প্রিয় , বলেছি তোকে কোনদিন ? আজকে এখন এই মুহুরতে তেমনি এক দুপুরে লিখতে বসলাম- সেই দুরের  ব্রাম্পটন শহর থেকে ঝা রোদে ড্রাইভ করে মাত্র ৪০ মিনিটেই বাড়ি এসে গেলাম। যেখানে অন্যদিন ফিরতে আমার পাক্কা ২ ঘণ্টা লাগে। বেশ লাগে জানিস , যখন জোরে ,অনেক স্পীডে গাড়ি চালাই ,আমার চারপাশে ঝকঝকে শহর , মনের ভিতরে বসে থাকে যে লুনা, সে আমাকে বলে, মনে আছে তো, তোমার শিকড় ? মনে আছে, তোমার  নীল হয়ে আসা জীবনের সব পরাজয়ের গ্লানিগুলো ? মনে করতে পারো, কোথা থেকে সুরু করেছিলে এই জীবন ? এরকম হাজারো প্রশ্ন আর না মেলানো জীবনের অব্যক্ত হিসেবগুলো চলে আসে আমার সামনে, মনে হয় আমিই কথা বলছি  আমার সত্তার সাথে , আসলে কি কাজটা আমি একা করি ? সবাই করি,সব্বাই । গতকাল একটা মেয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো বীথী,আমি অবাক হয়ে যাই প্রতিটা মানুষের জীবনবোধ দেখে ,বার বার ভাবি , জীবন কি অসম্ভব বড় আর বিচিত্র , কেন আমরা হাল ছেড়ে দেই ? মেয়েটির সাথে পরিচয় কয়েক সপ্তাহ ধরে, ও বলল – আপা , আমি প্রথম বিয়ে করেছিলাম ১৪ বছর আগে, আমার  স্বামীর ভীষন রাগ ছিলো,গায়ে হাত তুলতো কিন্তু মানুষ অসৎ ছিলো না, আমি সেই  বাজে রাগ নিতে পারিনি কিছুতেই , তাই আমরা  মিউচুয়াল ডিভোর্স করি। এর ভিতরেই আমার একটা মেয়ে হয় , জানেন আপা , আমি  বিদেশে অনেক সৎ জীবনযাপন করেছি কারন আমার বাচ্চার বাবার সাথে মেয়ের রিলেশন ভালো , তাই আমার ভিতরে পুরুষ নিয়ে অবিস্বাশ নেই, আমার ফেলে আসা জীবন নিয়ে কোন অপরাধবোধ –ও নেই ,বাবা  মা , ভাই ,বোনের ভীষন সাপোর্ট ছিলো এই জীবনের পিছনে। এর পর থিক ১২ বছর পরে আমি অন্ধের মতো একজন কে ভালোবাসি, অন্ধের মতো আপা, আমি কারো কারো কথা সুনিনি, যেহেতু বিদেশ এ থাকি তাই অনেক মানুষ আমাকে সাবধান করেছিলো আমি যেনো ভালোমতো ভাবি , কিন্তু আপা আমি বুঝতেই পারি না, যে ভালোবাসায় বিস্বাশ থাকে সেখানে বোঝার কি আছে ? জানিস বীথি, এই  বলে মেয়েটি আকাশ ফাটিয়ে কাদতে থাকে , আমি ভাবি, কাদুক ও, কেদে নিক।  বলে, আপা , ছেলেটি আমাদের  সম্পর্কের ব্যাপারে সৎ থাকেনি , ও আমাদের  রিলেশনকে   রে্সপেক্ট করেনি।  এই গল্প আমি আর করবো না বিথি, এই কথা এখানেই শেষ। কিন্তু মেয়েটিকে আমি সন্মান করি অন্য জায়গা থেকে । ও বলে আপা, অনেক অনেক মেয়ে বাচ্চার দোহাই  দিয়ে  বহুগামী  স্বামীর  সাথে থেকে যায়,অনেকে আবার পারিবারিক / সামাজিক   সন্মানকেও টেনে আনে অজুহাত হিসেবে, আমি সুদু একটা বিষয় বুঝতে পারি না , অজুহাত  দিয়ে কি সুখী হওয়া যায় ? বা নিয়ন্ত্রন ( স্বামী বা  স্ত্রী) করে ? মেয়েটি আবার বলে, কম তো দেখলাম না । অনেক মেয়ে আছে , স্বামীর গতিবিধি উপর কড়া  নজর রাখে, আবার অনেকে সেলফোন,ফেসবুক, ইমেল , ক্রেডিট কার্ড এইসব  চেক করে করে স্বামীকে পথে রাখার চেষ্টা করে। কি অদ্ভুত আপা, আমি ভাবি , যে মানুষ সুযোগের অভাবে  চরিত্রবান আমি তার সাথে কেন সংসার করবো ? হ্যা করবো , যদি আমার কোন উপায় না থাকে, যদি আমার ভাত /কাপড়ের যোগান না থাকে , যদি আমার বাচ্চার  খাবার আমি যোগাড় করতে না পারি, তাহলে হয়তো আমি যে কোন উপায়ে আমার স্বামীর সংসারে থেকে যাবার চেষ্টা করবো ।  কিন্তু যদি আমার উদ্দেশ্য হয় আমি  সংসারে সুখি হতে চাই তাহলে তো অবশ্যই আমি   উত্তম /সুচিত্রার সিনেমার মতো নায়ক চাইবো,আমি কেন  কম্প্রোমাইজ করবো এই ইস্যুতে ? আমি কেন বলবো – ছেলেমানুষ  একটু এদিক ওদিক যাবেই , কি আবাক – যে আমার সাথে নীতিগতভাবে সৎ থাকবে না তাকে নিয়ে সামাজিক পরিচয় দাড়া করাবার কি আছে ? আর আমার বাচ্চার সামনেই বা আমি কেন মিথ্যা বাবা,র ইমেজ তৈরি করবো ? আমার বাচ্চা কি বড় হবে না আপা ,বলেন ? সে কি দেখবে না যে সমাজে  বহুগামী  পুরুষ থাকে কিন্তু তার মা সেই অনাচারকে প্রশ্রয় দেয়নি, এইটুকু কি বুঝবে না আমার সন্তান, আমার সন্তান কি কোনদিনও  পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে না ? সেদিন আমি কি অজুহাত দেবো আমার সন্তান কে ? সেদিন কি আমি বলবো তোমার বাবা সৎ ছিলো না তবুও আমি সংসার করেছি তোমার জন্য , সেদিন যদি আমার সন্তান আমাকেই কাঠ-গড়ায় দাড়া করায় আপা, আমি কি উত্তর দেবো সেদিন ? জানেন আপা, আমার এখন বিস্বাশ হয় ,মেয়েরা একা বাচার মতো  সাহস অর্জন করতে পারে না তাই সারাক্ষণ দোহাই  খোজে ।  বিথি, মেয়েটির কথা আমাকে ভীষন নাড়া দিলো জানিস -আমি ভাবলাম, তাইতো মেয়েটি তো ভুল বলছে না কোথাও, আমি নিজেই তো সংসার ছেড়ে বের হবার আগে এমন নানা অজুহাত দিয়েছি দিনের পর দিন, সুখী কি হয়েছিলাম আমি সংসারে ?  জানেন আপা, সেই যে ছেলেটি, যে ভালোবাসাকে অপমান করলো ওকে আমি ভুলতে পারিনা, কিছুতেই না, কারন আমি যে ভালোবেসেছিলাম তাতে কোন ভুল ছিলো না তাই ভুলতে পারি না কিছুই, পুরোন মেইল নিয়ে বসে থাকি, ছবি নিয়ে বসে থাকি,স্রিতি নিয়ে বসে থাকি, একা ঘরে কাদতে থাকি, আমার ১০ বছরের মেয়ে আমার পাশে দাড়িয়ে বলে , মা তুমি আর কত কাদবে ? আমি আমার মেয়েকে বলেছি আপা,আমি বাকী জীবন হয়তো কাদবো, কিন্তু অসৎ ভালোবাসা আর অসৎ মানুষের সাথে থেকে ভালো জীবনের অভিনয় করবো না । বীথি, তোকে কি আমি কিছু বলতে পারলাম ? তুই কি বুঝতে পারলি আমার না বলা কথাগুলো ? তুই কি দেখতে পাচ্ছিস ,আমি ও সেই মেয়েটির মতো আকুল  হয়ে বসে আছি এই ঘুঘু ডাকা শুন্য দুপুরে ? আদর  তোকে ।

২৯/০৫/২০১৪

পাঠকের মন্তব্য

শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

জন্মদিন/শুভেচ্ছা/অভিনন্দন


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

কাজ চাই/বাড়ি ভাড়া


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন/অনুভূতি


 
 
নিবন্ধন করুন/ Registration