৮ময় বর্ষ সংখ্যা ৪৯ | সাপ্তাহিক  | ১৬ আগস্ট ২০১৭ | বুধবার
কী ঘটছে জানুন, আপনার কথা জানান

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি

শওগাত আলী সাগর

অর্থমন্ত্রীর  বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিক বন্ধুদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সাংবাদিক বন্ধুই ‘অসাংবাদিকসুলভ’ আচরনও করেছেন। এই সব প্রতিক্রিয়া পড়তে পড়তে ভাবছিলাম- সাংবাদিকদের হাতে যুক্তি কি এতোই কম যে তাদের রেগে মেগে গালি গালাজ পর্যন্ত করতে হবে !

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এর অনুপ খাস্তগীরকে আমি ধন্যবাদ দেই। এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা, সাংবাদিক অনুপ বরং সাংবাদিকতা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতার বিপরীতে সাংবাদিকতাই করেছে। তথ্য উপাত্ত দিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে নাকচ করে  দিয়েছে অনুপ খাস্তগীর।

সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমি নিজে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি। কারন, আমার মনে হয়েছে- এই বক্তব্যের সূত্র ধরে দেশের মিডিয়া জগত নিয়ে একটা আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যে আলোচনায় দেশের মিডিয়ার সত্যিকারের চেহারাটা বেরিয়ে আসবে।

সরকারের হাতে থাকা নথির তথ্য অনুসারে, ২২টার বেশি পত্রিকা অস্টম ওয়েজ বোর্ড   বাস্তবায়ন করেছে। ২২টি পত্রিকার সাংবাদিক যদি ৮ম ওয়েজ বোর্ড অনুসারে বেতন পান- তা হলে চিত্রটা তো অর্থমন্ত্রীর  বক্তব্যের পক্ষেই যায়। এখন এই পত্রিকাগুলো আসলেই ৮ম ওয়েজ বোর্ডে বেতন দেয়- না কি সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে- এটি কিন্তু সাংবাদিকতার বিষয়, মানে রিপোর্টিং এর বিষয়। অন্য কোনো সংস্থা এই ধরনের কাজ করলে এই সাংবাদিকরাই তো সেটিকে শিরোনাম বানিয়ে ফেলতো। নিজেদের ঘরে এই কাজ হলে সেটি শিরোনাম হবে না কেন? আমার তো মনে হয়েছে, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রিপোর্টারদের অনুসন্ধানে ঝাপিয়ে পড়ার কথা ছিলো।

ওইযে অর্থমন্ত্রী বললেন,” ১৫টি হবে কি না আমার সন্দেহ আছে, ২০টি হতে পারে বড়জোড়। এই যে পাঁচশ কতটা কী আছে খবরের কাগজ, অল বোগাস,” কিংবা অর্থমন্ত্রী যে বললেন- “কাগজ পায়, এটা পায়, ওটা পায়।”- এই তথ্যটা কি রিপোর্টারকে  কৌতূহলী করে তোলার কথা না? ‘এটা ওটা কি পায়’ কিংবা ‘ ’১৫- ২০টাই কেবল পত্রিকা হলে বাকিগুলো কি এবং কেন?’- এ নিয়ে কি রিপোর্টারের অনুসন্ধান করার কথা না?

এটা তো বাস্তবতা সাংবাদিকরা প্রতারিত হচ্ছেন, ঠকছেন, তাদের ঠকাচ্ছেন- অন্য কেউ নয়- মিডিওয়ালারাই। সাংবাদিকরা জেনেও সেগুলো নিয়ে মুখ খুলেন না, সাংবাদিক নেতারাতো আরো না। অর্থমন্ত্রীর যদি ধারনা হয়, সাংবাদিকদের বেতন সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি- সেই ধারনাটা তার কিভাবে হলো, কোন তথ্যের ভিত্তিতে হলো- সেটিও তো রিপোর্টারের রিপোর্ট এর বিষয়। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে  নিশ্চয়ই পাঁচতারা হোটেলে চা টা খান, সেই সাংবাদিকদের বিত্তের প্রদর্শনী যদি অর্থমন্ত্রীকে এমন ভাবতে প্রেরণা দিয়ে থাকে, সেই দোষ তা হলে কাকে দেবো?

সংবাদ পত্র সাংবাদিকতা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতার খন্ডিত অংশ নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভে মেতে ওঠার বিপক্ষে আমি। আমি বরং তার পুরো বক্তৃতাটা ব্যবচ্ছেদ করার পক্ষে। সংবাদপত্র জগত সম্পর্কে অপ্রিয় যে প্রসঙ্গের তিনি অবতারনা করেছেন- সেই বিষয়ের খোলা মেলা আলোচনার পক্ষে। সাংবাদিকতা হচ্ছে তথ্যের খেলা, সাংবাদিকরা তথ্য নিয়েই তো খেলবেন। না কি?

শওগাত আলী সাগর, টরন্টোর বাংলাপত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক। 

পাঠকের মন্তব্য

শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

জন্মদিন/শুভেচ্ছা/অভিনন্দন


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

কাজ চাই/বাড়ি ভাড়া


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন/অনুভূতি


 
 
নিবন্ধন করুন/ Registration