একজন অর্ণির রতন হয়ে উঠা
তানজিয়া পলি
টরন্টোর সাংস্কৃতিক ভুবনে যে কয়েকটি সফল অনুষ্ঠানে যাবার সৌভাগ্য হয়েছে তার মধ্যে একটি ছিলো গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত কবিগুরুর ১৫০তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি, টরন্টো আয়োজিত রবীন্দ্রসার্ধশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। কাজের চাপে পুরো অনুষ্ঠান দেখার সময় ছিল না তাই শেষের দিকে গিয়ে যতোটুকু দেখতে পেরেছি তাতেই মন ভরে গেছে। শুনেছি যতোটিকু দেখতে পারি নাই তাতেও ছিল পরিচ্ছন্ন মেজাজের ছোঁয়া। সব কিছুতে ছিল সাজনো গোছানো প্রস্তুতি। নৃত্য নাট্য ভানুসিংহের পদাবলি, সঙ্গীতানুষ্ঠ এবং সব শেষে কবিগুরর গল্প অবলম্বনে, নাটক ‘পোস্টমাস্টার’ দেখতে পেরেছিলাম বেশ তৃপ্তি নিয়ে। ‘পোস্টমাস্টার’ না্টকটিতে কিশোরী অর্ণির নজরকাড়া অভিনয় দেখে মনে ভীষন দাগ কাটে গেছে। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘পোস্টমাস্টার’ –এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন টরন্টোর গল্পকার-নাট্যকার আকতার হোসেন। শুনেছি এই প্রথম তিনি নিজের লেখা নাটকের বাইরে গিয়ে অন্যের গল্প নিয়ে নাট্য রুপ ও নির্দেশনা দিলেন। শুধু আমার একারই নয়, উপস্থিত দর্শকের মধ্যে অন্যান্যরাও শতমুখে মেয়েটির রতন চরিত্রে অর্ণির অভিনয় দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো! অনেককে বলতে শুনেছি শেষ দৃশ্যে তারা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। মেয়েটির এতো সুন্দর অভিনয় দক্ষতার প্রতি আগ্রহবোধ থেকেই তাকে জানার কৌতুহল হল। প্রবাসে জন্ম নেয়া একটি মেয়ে এতো পুরোনো একটি বহুল আলোচিত চরিত্রে কিভাবে নিজেকে উপস্থাপিত করতে পারলো তা জানার জন্য চলে গিয়েছিলাম মেয়েটির বাসায়। গত ১২জুন সকালে কিশোরীবয়সে সদ্য পা-ফেলা তাসনিম আহমেদ অর্ণির মুখোমুখি হই। আমাদের কথপোকথনে অর্ণির মা হোসনে আরা আহমেদ (রেবা ) সহযোগিতা করেন নানাভাবে। স্বভাবে লাজুক এবং মৃদুভাষী, শ্যামলাবরণ এ মেয়েটির সঙ্গে নাটক প্রসঙ্গেই আলোচনার সূত্রপাত হলো।পরিষ্কার বাংলায় উত্তর দিয়ে প্রথমেই চমক লাগিয়ে দিলো যেনো! জানতে চাইলাম, মঞ্চে এতো লোকের সামনে অভিনয় করতে ভয় লাগেনি তোমার!
উত্তর: না তো। আমিতো অনেকদিন রিহার্সাল করেছি, প্রায় চার মাস। তাছাড়া মঞ্চে এর আগেও অনেক উঠতে হয়েছে নাচের জন্য।
প্রশ্ন: পোস্টমাস্টার নাটকের রতন চরিত্রে অভিনয় করতে কেমন লেগেছে তোমার?নাটকের পরে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে কি মনে হয়েছিল?
উত্তর: খুব ভালো লেগেছে। অনেকেই প্রশংসা করেছেন। আমার সাথে এসে যখন বড়রা ছবি তুলতে চাইল তখন মনে হয়েছে নাটক ভাল হয়েছে। মনে হলো পরিচা্লকের-দর্শকের প্রত্যাশায় পূরণ হয়েছে। আমার প্রিয়বন্ধু রিংকেল সবার আগে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো, সে আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না! অনেক আঙ্কেল-আন্টিরা এসে হাগ করেছে। সেটাও ভাল লেগেছে।
প্রশ্ন: এটাই কি তোমার প্রথম মঞ্চনাটক? নাকি এর আগেও আর কোনো মঞ্চনাটকে কাজ করেছো?
উত্তর: আমার প্রথম মঞ্চনাটকের নাম ‘যুদ্ধশিশু’। এ নাটকটি লিখেছিলেন আকতার হোসেন এবং নির্দেশকও ছিলেন তিনি। এছাড়া টরন্টো থিয়েটারের নাটক ‘ড্যানফোর্থ এভিনিউ’তে কাজ করেছি। তবে এ দুটো নাটকের আমার চরিত্রগুলো ছোট ছিলো।
প্রশ্ন: তার মানে হলো, এই প্রথম বড় এবং মূল একটি চরিত্রে কাজ করলে, তাই না?
উত্তর: জ্বি।
প্রশ্ন: এতবড় একটি চরিত্রে এত ভালোভাবে অভিনয় করতে পারবে, সেই আত্মবিশ্বাস কি শুরু থেকেই ছিলো?
উত্তর: না। হয়েছে কি, আকতার আংকেল (নির্দেশক) একদিন ফোন করে অনেকক্ষণ আমার সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন, জানতে চাইলেন আমি গান গাইতে পারি কিনা। আমি বললাম আমি গান শিখি। তিনি গান শুনতে চাইলেন। তারপরপরই উনি এই নাটকটিতে আমাকে কাজ করতে অনুরোধ করেন। পরে শুনেছিলাম, ওই ফোনের কথাবার্তাই নাকি অডিশন ছিলো আমার জন্য। উনি, আমার মা- দুজনের আগ্রহেই আমি কাজ করতে পারবো বলে ভেবেছি। নাটকের স্ক্রীপ্ট হাতে পাবার পরপরই চটজলদি মুখস্ত করে ফেলেছি।
প্রশ্ন: তুমি বাংলা পড়তে পারো?
উত্তর: পুরোপুরি পারি না। আমার মা ইংরেজি হরফে বাংলাটা লিখে দিতে সাহায্য করেছেন, আমি সেটা দেখে মুখস্ত করে ফেলেছি।
প্রশ্ন: আর কি কি প্রস্তুতি নিয়েছিলে?
উত্তর: প্রথমেই পোস্টমাস্টার গল্প অবলম্বনে বানানো সত্যজিত রায়ের ছবিটি দেখে ফেলেছি। আকতার আঙ্কেলের নির্দেশ ছিল এটা। তার পরামর্শে মন দিয়ে দেখেছি কিভাবে ওরা কথা বলে, হাঁটাচলা করে, ওঠবস করে ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, রবীন্দ্রনাথের সময়কার মেয়েরা কিভাবে জীবনযাপন করে, কিভাবে গান গায় এগুলোর নানা ভিডিও ক্লিপও আকতার আংকেল দিয়েছিলেন দেখতে। তিনি চেয়েছেন, আমি যেন কাউকে কপি না করে প্রায় ৭০ বছর আগেকার জীবনযাপন প্রণালীটি আয়ত্বে আনতে পারি। পোস্টমাস্টার গল্পটি মনের মধ্যে বারবার ভাবার চেষ্টা করেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি ‘রতন’কে।
প্রশ্ন: রতনকে কেমন বুঝেছো একটু শুনতে পারি?
উত্তর: রতনের বাবা-মা-ভাইবোন কেউ নেই, সে এতিম, গরীব এবং দু:খী। পোস্টমাস্টার আসার আগে কেউ তাকে এমন করে আদর করে কথা বলেনি, ভালোবাসেনি। তাই পোস্টমাস্টারের ভালো কিছু হলে রতন আনন্দ পায়, খারাপ কিছু হলে খারাপ লাগে। তো, রতনের এই ব্যাপারটা আমি ফিল করতে চেষ্টা করেছি, এটা আমার বেলায় হলে কেমন লাগতো। তাছাড়া আমাকে বোঝাতে অনেক হেল্প করেছেন আকতার আংকেল ও আমার মা। আমার সহ-অভিনেতা হেলাল আংকেল (কাজী হেলাল)অনেক দূর থেকে কষ্ট করে আসতেন অভিনয় করতে। তিনিও প্রচুর সহযোগিতা করেছেন। ইন্টারনেট থেকে পোস্টমাস্টার নাটকের রিভিও এনে দিতেন আকতার আঙ্কেল। শুধু তাই না পরের দিন এসে ঠিকই জিজ্ঞেস করতেন আমি সেগুলো পড়েছি কিনা। তা নিয়েও রিহার্সেলের আগে কথা হতো।
প্রশ্ন: আচ্ছা রেবা, আপনার কি মন্তব্য অর্ণির ‘রতন’ হয়ে ওঠা সম্পর্কে?
উত্তর: সত্যিকার অর্থে অর্ণিতো ওইসময়কার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত নয়। বাসায় আমি অর্ণিকে তাই ওই সময়ের প্রেক্ষাপট বোঝাতাম। নির্দেশকও প্রতিবারই রিহার্সাল শুরু করার আগে বেশ কয়েকমিনিট ধরেই চরিত্রটা বার বার বুঝিয়ে দিতেন। ব্যক্তিগতভাবেই অর্ণি নরম স্বভাবের যেটা নাটকে স্বতস্ফূর্তভাবেই কাজে লেগেছে। অর্ণি দীর্ঘদিন ধরে নাচ করছে বলে নাচের নানা মুদ্রা ওর হাঁটা-চলায় চলে আসতো। আকতার ভাই সেগূলোকে ভুলে যেতে বার বার নির্দেশ দিতেন। মনে হয় আমার মেয়ের রতন চরিত্রটির প্রতি বেশ আগ্রহ জমে গিয়েছিল। সেটাকে পোক্ত করে দেয়ার জন্য নির্দেশক ঘরে ঢুকেই কিংবা ফোনে বলতেন কই, আমার রতন কই। সম্ভাবত রির্হাসেলের পুরো সময়টাতে তিনি ওকে রতন বলেই ডাকতেন। পরের দিকে যিনি পোস্টমাস্টারের চরিত্র করেছেন সেই হেলাল ভাইও তাকে রতন বলে ডাকতো। তাতে মনে হয় একটা মনস্তাতিক ব্যাপার ঘটে গেছে। সাম্প্রতি সে গান শিখছে, নাটকে সেই গান শেখাটাও কাজে লেগে গেল! অর্ণি বাসায়ও নিয়মিত চর্চা করেছে। তাছাড়া, সে শাড়ি পরে অভ্যস্ত নয় বলে বাসায় নিয়মিত শাড়ি পরে পরে চরিত্রটি চর্চা করেছে। রিহার্সলের দিন ছাড়াও অন্যান্য দিনেও কিছু কিছু জিনিষ একা একাই করত। এমনকি মাথায় জলপট্টির যে রিহার্সেল হতো সে সময়ও ভেজা পানির কাপড় ব্যবহার করত। পুরো রিহার্সেল আমার বাসাতে হওয়াতে তাকে বেশ জড়তাহীন বলে মনে হতো।
আকতার ভাইয়ের প্রডাকশনের ব্যাপারে আমাদের আগেই ধারণা ছিলো, তাঁর কাজ সম্পর্কে জানতাম। আগে অভিনয় করা চরিত্রগুলোর বেলায় অর্ণির অভিনয় অন্য কারো সাথে তুলনা করার ব্যাপার ছিলো না। কিন্তু পোস্টমাস্টার নাটকের রতন যেহেতু বহুল আলোচিত চরিত্র, কাজেই অর্ণির জন্য এটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। অনেকেই নাটক মঞ্চায়নের আগে কমবেশি শংকিত ছিলো অর্ণি এটি যথাযথভাবে পারবে কি না! কিন্তু শো এর পরে সকলের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ধরণ দেখে আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিলো। আকতার ভাই বলতেন, অর্ণির ভেতরের অভিনয়টুকু আমি বের করে আনতে চাই। তাই তিনিও সিরিয়াসলি খেটেছেন অর্নিকে নিয়ে, সহঅভিনেতা হিসেবে কাজী হেলালও অনেক সহযোগিতে করেছেন। ওরা দুজনেই অর্ণিকে মেয়ের মত আদর করে। বলা যায়, টিম-ওয়ার্ক খুব ভালো থাকায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া গেছে। আমি সত্যিই খুশি, অর্ণি তার কষ্টের ফল পেয়েছে বলে।
প্রশ্ন: অর্ণি, আবারো তোমার কাছে ফিরে আসি। সহ-অভিনেতা হিসেবে বয়সে অনেক বড় একজনের সঙ্গে কাজ করতে তোমার অসুবিধে হয়নি?
উত্তর: না। এর আগেও হেলাল আংকেলের সঙ্গে অভিনয় করেছি, উনি খুবই হেল্পফুল ও আমাকে অনেক আদর করেন। প্রথম প্রথম কিছু সমস্যা হতো, পরে ঠিক হয়ে গিয়েছিলো। যেমন, নাটকের এক জায়গায় আছে আমি উনাকে পানি দেই, উনি যে অবস্থানে ছিলেন সেই অবস্থান থেকে পানিটা ধরতেন বাঁ হাত দিয়ে। এটা খেয়াল করে নির্দেশক হায় হায় করে উঠে বললেন, কখনোই বাঁ হাতে পানি ধরা যাবে না কারণ ওই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে খাবার পানি ধরতে বাঁ হাতের ব্যবহার হতোই না। পরে আমরা দুজনই পজিশন চেঞ্জ করি। এরকম ছোট ছোট বিষয় প্রথমদিকে সমস্যা হতো, পরে অ্যাডজাস্ট করে ফেলেছি।
রিহার্সাল প্রসঙ্গে আলোচনা উঠলে অর্ণির মা জানান, প্রায় ৪ মাস আগে থেকেই প্রতি রোববার নাটকের রিহার্সাল হতো দু’ঘন্টা করে। সকাল ১০টা থেকে ১২ টা। প্রথম দিকে সপ্তাহে ১ দিন করে, পরবর্তীতে শনি-রবি দু’দিনই রিহার্সাল হতো। নাটকের আগে আগে শুধু বন্ধের দিনই নয়, সপ্তাহে ৪/৫ দিন করে রিহার্সাল করেছে সবাই।
প্রশ্ন: অর্ণি, রিহার্সাল চলাকালীন কোনো মজার অথবা দু:খের স্মৃতি আছে?
উত্তর: দু:খের কোনো স্মৃতি নেই। আকতার আংকেল আমাকে অনেক যত্ন করে শেখাতেন, ডিটেইলস বুঝিয়ে বলতেন। সবকিছুই উনি নিজে করে করে দেখিয়েছেন আমায়। আমি শুধু উনাকে ফলো করেছি। কোনোদিনও উনি বকাঝকা করেননি। তবে যেদিন রিহার্সালে আমি বা হেলাল আংকেল বেশ ভালো করতাম, সেদিন তিনি খুশি হয়ে ১টি করে লুনি উপহার দিতেন। তাতেই আমরা বুঝে যেতাম যে, আজ রিহার্সাল খুব ভালো হয়েছে। কারণ লুনিটার অর্থমূল্য নয়, অ্যাপ্রিসিয়েশন মূল্য ছিলো অনেক! এভাবে নাটক শো-এর আগে মোট ৫টি লুনি পেয়েছিলাম আমি!
কথাবার্তার এই পর্যায়ে অর্ণির মা রেবা জানান, ২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে কানাডাতে জন্মগ্রহণ করা অর্ণি পিতামাতার কনিষ্ঠ ও একমাত্র কন্যাসন্তান। তিনি বাসায় বরাবরই বাংলায় কথা বলেছেন বাচ্চাদের সঙ্গে। তাছাড়া অর্ণি যখন খুব ছোট ছিলো তখন ড্যানফোর্থের ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে’ অর্ণি বাংলা শিখতো। মাত্র তিনবছর বয়স থেকেই কম-বেশি অরুণা হায়দারের হাতে নৃত্যশিল্পে হাতেখড়ি। আজ অবধি নিয়মিত সে ‘সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন’এর ছাত্রী। এছাড়া সম্প্রতি গান শেখা শুরু করেছে সে।
প্রশ্ন: এতকিছু একসঙ্গে করতে গেলে পড়াশোনার ক্ষতি হয় না?
উত্তর: না। অর্ণির বয়স মাত্র ১১ হলো। স্কুলের পড়াশোনায় এখনো তেমন চাপ নেই। তাছাড়া ওর খুব দ্রুত আয়ত্ব করে ফেলার গুণটি রয়েছে। পড়াশোনার চাপ আরো বাড়লে কি হবে বলতে পারছি না। দেখা যাক।
প্রশ্ন: আচ্ছা রেবা, পুরো নাটকের পেছনে আপনার অবদানের কথাও বার বার উঠে আসছে? আর কোনো কিছুতে ইনভলব ছিলেন আপনি? আপনি কি এগুলো শুধুই দায়িত্ববোধ থেকে করেন?
উত্তর: জ্বি, ছিলাম। নাটকের নানারকম সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা, অর্ণির পোশাক-আকাশ যোগাড়, পরিকল্পনা ইত্যাদিতে যুক্ত ছিলাম। নাটক চলাকালীন মঞ্চের পেছনেও ব্যাকগ্রাউণ্ড কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। আমার নিজের জীবনে নানারকম শখ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নানা সীমাবদ্ধতার কারণে করে ওঠা হয়নি, তাই অর্ণির জন্য এগুলো করতে আনন্দই বোধ করি!
প্রশ্ন: অর্ণি, বড় হলে তুমি কোন মাধ্যমে বেশি পরিচিত হতে চাও?
উত্তর: নৃত্যশিল্পী অরুণা হায়দার আমার মডেল। আমি তাঁর মতো নাচতে চাই!
প্রশ্ন: নতুনদেশের পক্ষ থেকে তোমাকে অনেক ধন্যবাদ!
উত্তর: আপনাকেও ধন্যবাদ!
ফিরে আসার পথে ভাবছিলাম, এই ছোট্ট মেয়েটি পাহাড়সমান বোঝা বয়ে বেড়ানো রতনের চরিত্র কি নিপুণভাবে করতে পারল! চরিত্রের প্রতি আগ্রহ, অনুশিলন ও নির্দেশনা, সকলের প্রত্যাশা পূরনের প্রচেষ্টায় অর্নি কি করে ‘রতন’ হল সে কথা সে নিজেই হয়তো একসময় মনে করতে পারবে না,কিন্তু যারা তার অভিনয় দেখেছেন তারা হয়তো অতো সহজে ভুলে যেতে পারবেন না।